রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের সকলের হত্যাকাণ্ড দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা ফুটিয়ে তোলে। পুলিশের দেওয়া বয়ান, নিহতদের স্বজনের জবানবন্দি, পারিপার্শ্বিকতা ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের মধ্যে সাংঘর্ষিকতা রয়েছে, যা জনমনে প্রশ্ন ও আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উন্মোচন জরুরি।

গত ২৩ আগস্ট রাত ১১টার দিকে কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন রোববার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই রাতে আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

বর্তমানে মামলার তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে সরিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি-র ওসি জিনাত আলী নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বিজয় প্রসাদ তপু, বীথি দাস নন্দিনী, মাহফুজ হোসেন, মসিউর রহমান, সবুজ রায় ও মেহেদী হাসান তরুণ প্রমুখ।