সিলেটের বিয়ানীবাজারে নানা বাধা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সোনাই নদীতে লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতার ৩০তম আসর বসে। তবে ফাইনালে কালিজুরি ও শরীফগঞ্জের দুটি নৌকা পরপর দুবার নিয়মের বাইরে যাত্রা শুরু করায় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।
জুমার নামাজের পর থেকেই নদীর দুই পাড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষ ভিড় করতে শুরু করেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শকদের উপস্থিতিতে বিকেল সাড়ে চারটায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তা শেষ হয়।
এর আগে কথিত ‘তৌহিদী জনতার’ আপত্তির কারণে এই আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার পর গত সোমবার (২৪ আগস্ট) স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যস্থতায় শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়। ফলে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রতিযোগিতা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও ফাইনালের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে ফলাফল অমীমাংসিত থেকে গেছে। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে এবং প্রয়োজনে ফাইনাল প্রতিযোগিতা পুনরায় আয়োজন করা হতে পারে।
নৌকাবাইচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। দর্শনার্থীরা জানান, গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য দেখতে তারা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন।
আয়োজক কমিটির লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, "পূর্বনির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে এবং অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এতে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছেন। নৌকাবাইচ সফল করতে সহযোগিতা করায় প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।"