পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করা এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া গেছে। দীর্ঘ পাঁচ দিনের অনুসন্ধানের পর তাকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ২৩ জুন পঞ্চগড় সদর উপজেলার সোনালী ব্যাংক অটোস্ট্যান্ডের সামনে একা ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় ওই কিশোরকে। স্থানীয়রা তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কোনো স্পষ্ট উত্তর না পেয়ে তাকে পঞ্চগড় সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিজের নাম আব্দুল ওয়াহিদ (১৫), পিতা মো. জাকির আহমদ, মাতা মোছা. রাশেদা বেগম এবং ঠিকানা চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার কালুরঘাট (সিও অফিস) এলাকা হিসেবে মিথ্যা তথ্য দেয়। ওই দিনই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়েও কথিত পরিবারের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় আদালতের নির্দেশে তাকে আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়।
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকাকালে কিশোরটির দেওয়া তথ্য ও আচরণ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। তারা বিভিন্ন কৌশলে অনুসন্ধান শুরু করলে কিশোরটির রোহিঙ্গা পরিচয়ের সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এরপর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে তার প্রকৃত পরিচয় ও পরিবারের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সমাজকর্মী মো. ইউসুফ আলী বলেন, "কিশোরটি প্রথমে চট্টগ্রামের ভুল ঠিকানা দিয়েছিল। পরবর্তীতে তার পরিচয় নিয়ে আমরা বিশেষ অনুসন্ধানে নামলে সে রোহিঙ্গা বলে জানতে পারি। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাথে যোগাযোগ করে পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল অফিসারের মাধ্যমে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।"
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লিগ্যাল অফিসারের মাধ্যমে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ কিশোর আব্দুল ওয়াহিদকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। স্থানীয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনি সহায়তা কেন্দ্র বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) সহযোগিতায় এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল জানান, "কিশোরটি প্রথমে নিজেকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল। পরবর্তীতে আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীর শিক্ষকদের অনুসন্ধানে তার প্রকৃত রোহিঙ্গা পরিচয় উন্মোচিত হয়। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লিগ্যাল অফিসারের সহযোগিতায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।"