দেশের ৩০টি জেলা থেকে আগত দৌড়বিদদের অংশগ্রহণে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো ফোটার আগে ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য হাফ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আব্দুর রশিদ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতাটি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উৎসর্গ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই ইভেন্টে পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে এবং মেসার্স গার্ডেনিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’ আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দৌড়বিদরা এসেছিলেন। ঢাকা থেকে আগত জিন্নাথ পারভীন বলেন, এই ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি এক জেলার সঙ্গে অন্য জেলার এবং এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের হৃদয়ের সংযোগ।

আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে রাষ্ট্রপতি যেমন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ দৌড়বিদ এলিন খান বলেন, একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানেই নতুন চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হয়, পা ক্লান্ত হয়ে আসে; কিন্তু থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ গন্তব্য কেবল ফিনিশিং লাইন নয়—নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। সেই জয় উদযাপনেই আমরা একসঙ্গে ছুটছি।

প্রতিযোগিতা শেষে দৌড়বিদ ও অতিথিদের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলো ঘুরে দেখানো হয়। শরীরচর্চার পাশাপাশি জনপদটির পরিচিতি বাড়াতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। ঠাকুরগাঁও রানার্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নূরে শাহাদাত স্বজন বলেন, আমরা খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে চাই। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে তুলে ধরা এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন।

ইভেন্টের সমাপ্তিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ উজ জামান। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।