ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত জীবন ইন্টারনেটের সাথে এতটাই জড়িত যে চাহিদা থাকলেও অনলাইন থেকে সকল তথ্য রাতারাতি বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। তবে অনলাইন উপস্থিতি হ্রাস এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাক এডি ইন্টারনেট থেকে নিজের তথ্য মুছে ফেলার এক কঠিন ও দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের আলোকে অনলাইন ডাটা পরিচালনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো।
গুগল বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিনে নাম বা ফোন নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য উঠে আসে। মূলত বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহকৃত তথ্য অনলাইনে বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এই তথ্য প্রকাশ করে। এসব তথ্য অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে মুছে ফেলার আবেদন পাঠাতে হয় অথবা ‘ডিলেট মি’র মতো ডেটা-রিমুভাল সার্ভিসের সহায়তা নেওয়া যায়।
গত ১০ বা ১৫ বছরে কতগুলো ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, তার হিসাব রাখা কঠিন। তবে বিটওয়ার্ডেন বা হ্যাভ আই বিন পন্ডের মতো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার টুল ব্যবহার করে পুরোনো অ্যাকাউন্টের তালিকা বের করা সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টগুলোর তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে হবে। অন্যদিকে, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো সচল প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রোফাইল লক করে রাখা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ১০ থেকে ১২ বছরে করা হাজার হাজার পোস্ট, ছবি বা টুইট একসাথে মুছে ফেলা সময়সাপেক্ষ। এই কাজটি সহজ করতে সিওয়াইডি-র মতো ওপেনসোর্স টুল ব্যবহার করা যেতে পারে, যা এক্স বা টুইটারের পুরোনো পোস্ট ডিলিট করতে সাহায্য করে। এছাড়া ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে পরিবার বা বন্ধুদের আপলোড করা ছবিতে ট্যাগ থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে অথবা ছবি মুছে ফেলার অনুরোধ জানাতে হবে।
অনলাইন থেকে সবকিছু মুছে ফেললেও জন্মনিবন্ধন, ভোটার তালিকা বা সরকারি অনুদানের মতো তথ্য অপসারণ করা যায় না। ফলে অনলাইন থেকে ডিজিটাল পদচিহ্ন সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা শতভাগ সম্ভব নয়। তবুও সচেতন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য অনেকাংশেই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস