মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর বাজার এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দলীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশাম হক গতকাল বৃহস্পতিবার কুলাউড়ায় শ্বশুরবাড়িতে ভ্রমণে আসেন। রাতে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় দলীয় বিষয়ে আলোচনা শেষে রাত আটটার দিকে বের হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে সাফওয়ান জাহান চৌধুরী (২৮), জাবেদ রহমান (২৫), মারুফ আল হামিদ (২৬), রাজু আহমদ (২৫), সাফাকাত হোসেন (২৫), জিল্লু খান (২০) ও আরিফুল ইসলাম (২২) আহত হন। আহতরা এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী। পরে তাদের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এহসান জাকারিয়া, তোফায়েল আহমদ, সাহেল আহমদ, ফাহিম আহমদ ও সোহাগ মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এহসান জাকারিয়া মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক। অন্যরাও দলীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদ বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এহসান জাকারিয়া দলে পদ দেওয়ার কথা বলে তামিম আহমদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এ নিয়ে তামিম ফেসবুকে লেখালেখি করলে এহসান তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন। এর জের ধরেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে তামিম আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে বড়লেখা উপজেলায় নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি নেতা-কর্মীদের নিয়ে রেস্তোরাঁর সামনে পৌঁছানোর পর প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। তিনি বলেন, মামলার এজাহারে যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনাও সেটিকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে।
মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সদস্যসচিব রুহুল আমিন মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সিলেটের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা শেষে ফেরার সময় দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ বহিরাগত কিছু লোক পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালান। ঘটনার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। ঘটনায় জড়িত দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম আজ শুক্রবার সকালে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আটক পাঁচজনকে তামিম আহমদের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মৌলভীবাজারের আদালতে পাঠানো হয়েছে।