বিমানে ভ্রমণের সময় লাগেজ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে প্রায়শই বিভ্রান্তি দেখা যায়। অনেকে মনে করেন, নির্দিষ্ট ওজনের মধ্যে থাকলে যত খুশি ব্যাগ নেওয়া যাবে। তবে বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। বিমান সংস্থা ও টিকিটের শর্ত অনুযায়ী ব্যাগের সংখ্যা, প্রতিটির ওজন ও আকারের আলাদা সীমা থাকে। একই সংস্থার ক্ষেত্রেও গন্তব্য ও ভাড়ার ধরন পরিবর্তনের সাথে লাগেজের নিয়ম বদলে যেতে পারে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের টিকিটে উল্লিখিত লাগেজের অনুমোদনকেই চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে মানতে বলেছে।
বিমানের লাগেজ সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত। চেকড লাগেজ বিমানবন্দরের কাউন্টারে জমা দিয়ে কার্গোতে পাঠাতে হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর লাগেজ বেল্ট থেকে সংগ্রহ করতে হয়। অন্যদিকে কেবিন লাগেজ যাত্রী বিমানের ভেতরে সঙ্গে রাখতে পারেন, যা সাধারণত ওজন ও আকারে ছোট হয়। তাই শুধু মোট ওজন না জেনে কয়টি চেকড ও কেবিন ব্যাগ নেওয়া যাবে, তা অবশ্যই যাচাই করা জরুরি।
একটি টিকিটে চেকড ব্যাগের সংখ্যার কোনো সার্বজনীন সীমা নেই। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ইকোনমি শ্রেণিতে ২০ কেজি পর্যন্ত চেকড লাগেজ সর্বোচ্চ দুই পিসে নেওয়া যায়। বিজনেস শ্রেণিতে এই সীমা ৩০ কেজি পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই পিস। তবে আন্তর্জাতিক রুটে ইকোনমি শ্রেণিতে ৩০ কেজি, ৪৫ কেজি বা অন্য পরিমাণের অনুমোদন থাকতে পারে। কেবিন ব্যাগের ক্ষেত্রে ইকোনমি শ্রেণির যাত্রী একটি ব্যাগ নিতে পারেন, যার সর্বোচ্চ ওজন ৭ কেজি এবং আকার ৫৬ × ৩৬ × ২৩ সেন্টিমিটার। বিজনেস শ্রেণিতে ১০ কেজি পর্যন্ত কেবিন লাগেজের অনুমতি রয়েছে এবং সেখানে দুই পিস পর্যন্ত নেওয়া যায়। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে কেবিন ব্যাগের সর্বোচ্চ ওজন ৭ কেজি হলেও বিমানের ধরন অনুযায়ী আকারের সীমা ভিন্ন হতে পারে। ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন হাতব্যাগ, ছাতা, পড়ার সামগ্রী বা চিকিৎসা সহায়ক উপকরণ শর্তসাপেক্ষে অতিরিক্ত নেওয়া যেতে পারে।
লাগেজ গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু ওজনই নয়, মাপও গুরুত্বপূর্ণ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নিয়মে চেকড ব্যাগের তিন দিকের মোট মাপ ১৫৮ সেন্টিমিটারের বেশি হওয়া চলবে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষ হলো, একটি চেকড ব্যাগে সাধারণভাবে ৩২ কেজির বেশি ওজন রাখা যাবে না। এর বেশি হলে তা একক ব্যাগ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং মালপত্র ভাগ করে নিতে হবে। টিকিটে ২০ কেজি অনুমোদিত থাকলেও ৩২ কেজি পর্যন্ত ব্যাগ নেওয়া গেলেও অতিরিক্ত ওজনের জন্য বাড়তি ফি দিতে হতে পারে। অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি লাগেজ নিলে অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইটে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত ১০০ কেজি পর্যন্ত, সর্বোচ্চ পাঁচ পিসের সীমার কথা উল্লেখ থাকলেও মূল্য রুটভেদে পরিবর্তিত হয়।
শিশু যাত্রীদের ক্ষেত্রে লাগেজের নিয়ম আলাদা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মে শিশুর জন্য ১০ কেজি পর্যন্ত চেকড লাগেজের সুবিধা রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তে ভাঁজ করা স্ট্রলার, শিশুর বহনযোগ্য আসন বা ক্যারিকটও নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ, নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাটারি বা ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস কেবিন বা চেকড লাগেজে বহন করা নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ।
বিমানবন্দরে ঝামেলা এড়াতে যাত্রীদের টিকিটে কত কেজি ও কয়টি ব্যাগ অনুমোদিত তা আগেই যাচাই করা উচিত। কেবিন ব্যাগের ওজন ও আকার মেপে নেওয়া, প্রয়োজনে মালপত্র একাধিক ব্যাগে ভাগ করা এবং অতিরিক্ত লাগেজের খরচ আগে থেকে জানা জরুরি। একই সংস্থায় এক রুটে যে পরিমাণ লাগেজ নেওয়া যায়, অন্য রুটে তা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ ভাড়া বা প্রচারমূলক টিকিটে চেকড লাগেজের সুবিধা আলাদা হতে পারে। তাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের টিকিট কেনার আগে এবং ভ্রমণের আগে নির্দিষ্ট লাগেজ অনুমোদন যাচাই করতে বলেছে। বিমান ভ্রমণের আগে টিকিটের তথ্য ও সংস্থার হালনাগাদ নিয়ম মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা।
সূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লাগেজ নীতিমালা