ইন্টার মায়ামির টানা ব্যর্থতার জেরে কোচ গিয়ের্মো হয়োসের পদ ঝুঁকিতে। দলের ফলাফল না থাকলেও লিওনেল মেসির সঙ্গে তার দীর্ঘ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়হীন মায়ামি। এই সময়ে তারা ১২ গোল হজম করেছে। লিগস কাপের প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এমএলএসে টরন্টো এফসির কাছে সর্বশেষ ২-১ গোলে হার করে হয়োসের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। পয়েন্ট তালিকায় ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও শীর্ষস্থানীয় ন্যাশভিল এসসির চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা। এর মধ্যে ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ায় মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দ্য অ্যাথলেটিকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সমস্যাটি শুধু ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। হয়োসের অধীনে মায়ামির খেলায় পরিষ্কার কোনো কৌশল কিংবা দলীয় কাঠামো দেখা যাচ্ছে না। আক্রমণে মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, রক্ষণের একের পর এক ভুল এবং মাঝমাঠে ভারসাম্যের অভাব দলটিকে পিছিয়ে দিচ্ছে। কাসেমিরো ও রদ্রিগো দি পলের মতো অভিজ্ঞ দুই মিডফিল্ডার থাকলেও তাদের জুটি প্রত্যাশিত নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে পারেনি। ম্যাক্সি ফ্যালকন ও মিকায়েলের রক্ষণও নড়বড়ে। গোলরক্ষক রোকো রিওস নভো এবং ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারের পারফরম্যান্স নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
দুঃসময়ের ব্যাখ্যায় ঠাসা সূচি এবং দক্ষিণ ফ্লোরিডার গরম ও আর্দ্রতার কথা বলেছেন হয়োস। একবার সমাধান হিসেবে ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রাখার কথাও বলেন তিনি। তবে দ্য অ্যাথলেটিকের মতে, বাইরের কারণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও দলের কৌশল ও খেলোয়াড়দের ব্যবহারে পরিবর্তন আনার দায়িত্ব কোচেরই।
এখানেই সামনে আসছে মেসির সঙ্গে হয়োসের সম্পর্ক। বার্সেলোনার লা মাসিয়ায় কিশোর মেসিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন। মেসি তাকে নিজের ফুটবল জীবনে বাবার মতো বলে উল্লেখ করেছিলেন। দুই পরিবারের মধ্যেও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। হয়োস নিজেও মেসির সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। জাভিয়ের মাচেরানো গত এপ্রিলে সরে দাঁড়ানোর পর মায়ামির দায়িত্ব পান ক্লাবটির তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক হয়োস। ক্লাবের ঘোষণায় তাকে প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ বলা হয়েছিল। শুরুতে তার অধীনে ভালো ফল করায় বিশ্বকাপ বিরতির পরও দায়িত্বে রাখা হয়।
মেসির প্রশংসায়ও প্রায়ই বাড়তি আবেগ দেখিয়েছেন হয়োস। এক ম্যাচের পর আর্জেন্টাইন তারকাকে পিকাসোর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন তিনি। আরেকবার দর্শকদের উদ্দেশে মেসিকে আগলে রাখার আহ্বান জানান। ফলে তার নিয়োগ ও চাকরির নিরাপত্তার পেছনে মেসির প্রভাব রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। তবে ইন্টার মায়ামি এখন পর্যন্ত হয়োসকে ছাঁটাইয়ের কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। তাই বিষয়টি এখনো সম্ভাবনা ও বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পরের কয়েকটি ম্যাচে দলের পারফরম্যান্স ঘুরে না দাঁড়ালে মায়ামির কর্তাদের সামনে প্রশ্নটি আরও বড় হয়ে উঠবে, ফলাফল নাকি মেসির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক, কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দেবে ক্লাব?