গাইবান্ধার সাঘাটায় জামায়াত কর্মী সাইফুল্লাহ বারী নিহত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর পরিবারের একান্ত সাক্ষাতের তথ্য জানতে চেয়ে ভুয়া এনএসআই পরিচয়ে ফোন করা ও তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুব জামায়াতের কয়েক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহতের আত্মীয় শাহ মো. আতাউর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সাইফুল্লাহ বারীর কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি নিহতের বাবা নাজমুল হুদার সঙ্গে ঘরের ভেতরে একান্তভাবে কথা বলেন। ওই দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সালাউদ্দিনের মামা শাহ মো. আতাউর রহমান নিজ বাড়িতে থাকাকালীন দুটি মোবাইল নম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে কল আসে। কলদাতারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এনএসআই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে পরিবারের একান্ত সাক্ষাতে কী আলোচনা হয়েছে, তা জানতে চান।
আতাউর রহমান জানান, সাক্ষাতের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানালে কলদাতারা ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের বিষয়টি জানান। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তিনি সাঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে সাঘাটা উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এনামুল হক সরকার (৫০), যুব জামায়াতের কর্মী মো. সাজ্জাদ হোসেন শিহাব (২৫) এবং যুব জামায়াতের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী (২৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শাহ মো. আতাউর রহমান বলেন, "ভুয়া পরিচয়ে ফোন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে চাওয়া এবং পরে তুলে নেওয়ার হুমকিতে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "বুধবার রাতে ভুয়া এনএসআই পরিচয়ে ফোন করে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করছেন বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সাজেদুর রহমান। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে।"