মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সিডিখান ইউনিয়নের মোক্তারহাট এলাকায় বুধবার (২৬ আগস্ট) সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগে স্থানীয়রা কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালাম খানকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালকিনি–সাহেবরামপুর সড়কের পাশে থাকা একটি সরকারি গাছ কাটছিলেন স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী মোকলেস মোল্লা। তিনি জানান, "সালাম খানের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় গাছটি কিনে আমি কাটা শুরু করেছিলাম। গাছটি বিক্রির অনুমতি রয়েছে।" বিষয়টি জানাজানি হলে সালাম খান ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর সরকারি জমির গাছ ব্যক্তি পর্যায়ে বিক্রির অভিযোগ তুলে স্থানীয় লোকজন তাকে ঘিরে ধরে রাখেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি জায়গার গাছ ব্যক্তি পর্যায়ে বিক্রি করার এখতিয়ার কারও নেই। অথচ অনুমোদনের কাগজপত্র প্রকাশ্যে না দেখিয়েই গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবরুদ্ধ অবস্থায় সালাম খান দাবি করেন, "যাত্রী ছাউনি নির্মাণের জন্য সরকারি অনুমতি নিয়েই গাছটি বিক্রি করা হয়েছে।" তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেই অনুমোদনের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি অনুমোদনের প্রমাণপত্র দেখানোর আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা তাকে ছেড়ে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর শিকদার, ফরিদ শিকদার ও জুয়েল চৌকিদার বলেন, "গাছ বিক্রির বৈধ অনুমোদন রয়েছে—এমন কোনো কাগজপত্র তখন ঘটনাস্থলে দেখানো হয়নি।" পরে কাগজ দেখানোর শর্তে সালাম খানকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সালাম খান বলেন, "এলাকায় একটি যাত্রী ছাউনি তৈরি করা হবে। এ কারণে গাছটি বিক্রি করা হয়েছে। সরকারি অনুমতি নিয়েই গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" তবে তার দাবির সমর্থনে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অনুমোদনপত্র প্রদর্শন করা হয়নি।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করা হবে। আগামীকালের মধ্যে গাছ কাটার বৈধ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলা করা হবে।"