কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে মঙ্গলবার সকালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে শুরু হওয়া অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের পাঁচটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় এক জেলার বছরের পর বছর ধরে জমিয়ে রাখা প্রায় ২৫ লাখ টাকাও আগুনে পুড়ে যায়।
উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ওই গ্রামে সকাল ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যে কাঁচা ঘরগুলোতে তা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার দুর্গমতার কারণে ফায়ার সার্ভিস দল সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। পরে স্থানীয়রা প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে পাঁচটি ঘর, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সহায়-সম্বল পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলে মোক্তার উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে প্রতিদিন মাছ বিক্রি করে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলাম। ঘরের চালে রাখা একটি ড্রামে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ছিল। আগুন লাগার পর প্রতিবেশীদের সহায়তায় অর্ধপোড়া অবস্থায় মাত্র সাত থেকে আট লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, বাকি সব টাকা পুরোপুরি পুড়ে গেছে।" তিনি জানান, জমানো ওই টাকা দিয়ে ছোট ছেলেকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর স্বপ্ন ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে তারা সরকারি ত্রাণ ও স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে দ্রুত সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া উদ্ধার করা আংশিক পোড়া ব্যাংক নোটগুলো প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।