সাধারণত পেসারদের ‘নো বল’ করার প্রবণতা একটু বেশি। কিন্তু রবীন্দ্র জাদেজা পাঁচ বছর ধরে যা করছেন, তাতে পেসাররাও চমকে যেতে পারেন।

চলমান কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে ৩টি নো বল করেন ভারতের স্পিনার জাদেজা। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ১টি। এ পরিসংখ্যান অবশ্যই চমকে দেওয়ার মতো নয়। তবে হিসাবটি ২০২১ সাল থেকে করলে চমকে যেতেই হয়। এ সময়ে জাদেজার নো বল সংখ্যা ৮৮টি!

.

২০২১ সাল থেকে এ সময়ের মধ্যে জাদেজার মতো এত বেশি নো বল আর কোনো স্পিনারের নেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘নো’ বল যিনি করেছেন, পাকিস্তানের সেই নোমান আলীর ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৪০। জাদেজা ও নোমান দুজনেই বাঁহাতি স্পিনার।

গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে চারটি নো বল করেন জাদেজা। দুই ইনিংসে দুটি করে। এর মধ্যে তাঁর একটি নো বলে আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান শ্রীলঙ্কার ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। তবে ‘ওভারস্টেপিং’য়ের এই সমস্যা শুধু জাদেজার একার নয়, ভারতের বোলিং আক্রমণেরই। চলমান কলম্বো টেস্টে ভারতের বোলিং আক্রমণ এ পর্যন্ত ১২টি নো বল করেছে। এর মধ্যে অফ স্পিনার সারাংশ জৈন একাই করেছেন ৭টি নো।

.

২০২০ সালের শেষ দিকে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ থেকে টিভি আম্পায়ারদের নো বল ডাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন থেকেই জাদেজার নো বলের সমস্যা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেই পরিবর্তনের পর কাগিসো রাবাদা, বেন স্টোকস ও যশপ্রীত বুমরা ছাড়া আর কোনো বোলার জাদেজার চেয়ে বেশি নো বল করেননি। তাদের সবাই পেসার।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, জাদেজার ক্যারিয়ারকে দুটি ভাগে ভাগ করলে এই পরিসংখ্যান চমকে ওঠার মতো। ২০১২ সালে তাঁর টেস্ট অভিষেকের পর থেকে টিভি আম্পায়ার দিয়ে নো বল দেখার নিয়ম চালুর আগপর্যন্ত জাদেজা মাত্র ১৮টি নো বল করেছিলেন। কিন্তু এরপর নো বল করেছেন ৮৯টি।

.অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে শেবাগ ও দ্রাবিড়ের ছেলে.

জাদেজা ও জৈনের নো বলের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। মাঝেমধ্যে এটি আসলেই উদ্বেগের বিষয়। তবে বোলার যখন নিজের সর্বোচ্চ নিংড়ে দেন এবং এমন পরিস্থিতিতে উইকেট পান, যখন উইকেট পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তাঁর মধ্যে একটু বেশি জোরে বল করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এটি কোনো অজুহাত হতে পারে না।’

.

বাহুতুলে ব্যাখ্যা করেন, ‘জাদেজা ও জৈনের সঙ্গে ল্যান্ডিং পয়েন্ট বা ক্রিজ ছাড়ার বিষয়গুলো নিয়ে প্রচুর কাজ করা হয়েছে। কিন্তু কখনো কখনো নির্দিষ্ট বলে বাড়তি জোর প্রয়োগ করতে গিয়ে তারা লাইন ছাড়িয়ে (ক্রিজের বাইরে চলে) যায়।’

ভারতের হয়ে ২ টেস্ট ও ৮ ওয়ানডে খেলা সাবেক এই লেগ স্পিনার এরপর অদ্ভুত এক পথ বাতলে দিলেন। তাঁর পরামর্শ, ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টির মতো টেস্টেও ফ্রি হিট নিয়ম চালু করা হোক, ‘ফ্রি হিট থাকলে নিশ্চিতভাবেই নো বল কমে যাবে। কোনো দলই নো বল করে অতিরিক্ত বল ও রান উপহার দিতে চাইবে না।’

.বেসবল মাঠে ক্রিকেট, এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ভেন্যু নিয়ে নানা শঙ্কা