মহাকাশ গবেষণায় এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে আলোর গতির সাড়ে ৮ শতাংশ গতিতে ছুটে চলা এক অদ্ভুত নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে 'স্যাজিটেরিয়াস এ স্টার' নামক একটি অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল রয়েছে, যার ভর সূর্যের তুলনায় প্রায় ৪৩ লাখ গুণ বেশি। এই ব্ল্যাকহোলের প্রচণ্ড মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এর চারপাশের নক্ষত্রগুলোর গতিবিধি হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক। সম্প্রতি এই অঞ্চলেই এস৩০১ নামের একটি নক্ষত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, যার গতিবেগ অন্য সব নক্ষত্রকে ছাড়িয়ে গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, এস৩০১ নক্ষত্রটি স্যাজিটেরিয়াস এ স্টার ব্ল্যাকহোলের চারদিকে প্রতি ৮ দশমিক ৭ বছরে একবার প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করে। ব্ল্যাকহোলের সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থানে পৌঁছালে এর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ২৫ হাজার কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়, যা আলোর গতির ঠিক ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ফিজিকসের বিজ্ঞানী ফেলিক্স মাং এবং গ্র্যাভিটি প্লাস কোলাবরেশনের গবেষকেরা এই নক্ষত্রটি নিয়ে কাজ করেছেন।

নক্ষত্রটির দীর্ঘ কক্ষপথ ব্ল্যাকহোলের মহাকর্ষীয় কূপ বা গ্র্যাভিটি ওয়েলের গভীরে প্রবেশ করে, যার ফলে রোলার কোস্টারের মতো তীব্র গতি অর্জন করে এটি পুনরায় মহাশূন্যে ছুটে যায়। বিশেষ বিষয় হলো, ব্ল্যাকহোলের ঘূর্ণনের ফলে স্পেসটাইম বা স্থান-কালের চাদরে যে মোচড় তৈরি হয়, এস৩০১ ঠিক তার মাঝ দিয়েই যাতায়াত করে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে লেন্স-থিরিং প্রভাব বা ফ্রেম-ড্র্যাগিং বলা হয়। এই ঘূর্ণন গতির প্রভাবে নক্ষত্রটির কক্ষপথে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ব্ল্যাকহোলের ঘূর্ণন পরিমাপ করা সম্ভব হবে। আগামী দশকের মধ্যেই এই নক্ষত্রের কক্ষপথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্ল্যাকহোলের ঘূর্ণনরহস্য উন্মোচিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।