দেশের পরিবহন খাতে পরিবেশবান্ধব ও নিউ এনার্জি ভেহিকেলের (এনইভি) উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক গাড়ি প্রযুক্তির সরাসরি অভিজ্ঞতা পৌঁছে দিতে ‘বিওয়াইডি মিডিয়া ড্রাইভ’ শীর্ষক এক বিশেষ আয়োজন করেছে বিওয়াইডি বাংলাদেশ। তেজগাঁওয়ের শোরুম থেকে শুরু হয়ে গাজীপুরের একটি রিসোর্ট পর্যন্ত আয়োজিত এই দীর্ঘ গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতায় দেশের অটোমোবাইল–বিশেষজ্ঞ ও সংবাদকর্মীরা অংশ নেন।
রাজধানীর সংকুচিত পথ থেকে শুরু করে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে এবং গাজীপুরের আঞ্চলিক পথ—সব ধরনের বাস্তব ট্রাফিকে বিওয়াইডির বিভিন্ন মডেলের গাড়ি চালিয়ে দেখার সুযোগ পান অংশগ্রহণকারীরা। টেস্ট ড্রাইভ চলাকালে প্রতিটি গাড়ির তাৎক্ষণিক ত্বরণ, গতি নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং কার্যক্ষমতা এবং কম্পন ও শব্দ নিরোধক সক্ষমতা প্রত্যক্ষ দেখা হয়। ড্রাইভ শেষে রিসোর্টে বিওয়াইডির পণ্য–বিশেষজ্ঞ রেজওয়ান রহমান গাড়ির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্ভাবন নিয়ে কথা বলেন।
পরিবহন খাতকে কার্বনমুক্ত করতে বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও নিউ এনার্জি ভেহিকেলের (এনইভি) ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পেট্রল বা ডিজেলচালিত গাড়ির মতো এটি ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গমণ করে না। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক মডেলের পাশাপাশি বিওয়াইডি তাদের পেটেন্ট করা ‘ডিএম-আই সুপার প্লাগ-ইন হাইব্রিড’ প্রযুক্তি উপস্থাপন করেছে। বৈদ্যুতিক মোটরের তাৎক্ষণিক শক্তি ও গতিময়তার পাশাপাশি এতে ব্যাকআপ হিসেবে দক্ষ পেট্রল ইঞ্জিন সংযুক্ত থাকে, যা দূরপাল্লার যাত্রায় নিরবচ্ছিন্ন কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করে। বিওয়াইডির প্রযুক্তির মূল চালিকা শক্তি হলো তাদের উদ্ভাবিত ব্লেড ব্যাটারি। সাধারণ লিথিয়াম-আয়ন সেল থেকে এটি গঠনগতভাবেই অনেক বেশি নিরাপদ ও অগ্নিনিরোধক। চরম আঘাত ও দুর্ঘটনায় ব্যাটারিতে যেন আগুন না লাগে, তা নিশ্চিত করতে এটি কঠোর নেইল পেনিট্রেশন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। তীক্ষ্ণ পেরেক দিয়ে ব্যাটারি ছিদ্র করার পরও এতে কোনো ধোঁয়া বা অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় না এবং তাপমাত্রা নিরাপদ সীমার মধ্যেই থাকে।
বাংলাদেশে গ্রাহকদের নিশ্চিন্ত ব্যবহারের সুবিধা দিতে দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি নীতি ঘোষণা করেছে বিওয়াইডি বাংলাদেশ। প্রতিটি গাড়ির মূল শক্তি উৎস বা ট্রাকশন ব্যাটারির ওপর ৮ বছর বা ১ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি মিলবে। বৈদ্যুতিক ড্রাইভের মূল চালিকা শক্তি মোটর ও মোটর কন্ট্রোলারের জন্য রাখা হয়েছে ৮ বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটারের নিশ্চয়তা। সার্বিক গাড়ির প্রস্তুতকারক প্রদত্ত ওয়ারেন্টি হিসেবে রয়েছে ৬ বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটারের সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা।
অনুষ্ঠানে বিওয়াইডি বাংলাদেশের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইমতিয়াজ নওশের বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের রাস্তায় বিওয়াইডির ১ হাজার ২০০ টির বেশি গাড়ি চলাচল করছে। এটি কেবল একটি গাণিতিক সংখ্যা নয়, বরং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি সচেতন ক্রেতার আস্থার প্রতীক। গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি আমরা সার্বিক চার্জিং অবকাঠামো তৈরি, আসল খুচরা যন্ত্রাংশের দ্রুত সরবরাহ এবং কারিগরি বিক্রয়োত্তর সেবা সম্প্রসারণকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।’
বাংলাদেশি ক্রেতাদের প্রয়োজন ও বাজেটের ভিন্নতা বিবেচনায় রেখে বিওয়াইডি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড—উভয় শ্রেণিতেই বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাগশিপ মডেল সরবরাহ করছে। কম্প্যাক্ট হাইব্রিড সেডান হিসেবে সাশ্রয়ী ‘বিওয়াইডি সিল ৫’-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। যাঁরা মধ্যম বাজেটে প্রিমিয়াম ক্রসওভার কিংবা এসইউভি পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ৪৫ লাখ ৯০ হাজার টাকায় মিলছে ‘বিওয়াইডি সিলায়ন ৫’। শক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক নকশার ভারসাম্য সমন্বিত ‘বিওয়াইডি সিলায়ন ৬’ পাওয়া যাচ্ছে দুটি সংস্করণে, এর ফ্রন্ট-উইল ড্রাইভ সংস্করণের দাম ৬১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং অল-উইল ড্রাইভ সংস্করণের দাম ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক বা অল-ইলেকট্রিক বিভাগে স্পোর্টি ই-এসইউভি হিসেবে জনপ্রিয় ‘বিওয়াইডি অ্যাটো ৩’-এর ‘এসেনশিয়াল’ সংস্করণের মূল্য ৪৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ‘এক্সটেন্ডেড’ সংস্করণের মূল্য ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এক পূর্ণ চার্জে গাড়িটি ৩৪৫ থেকে ৪২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। অল-ইলেকট্রিক প্রিমিয়াম সেডান শ্রেণিতে ৪১০ কিলোমিটার রেঞ্জের ‘বিওয়াইডি সিল ৬’ মিলছে ৪৪ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। এ ছাড়া বিশ্বমানের লাক্সারি পারফরম্যান্সের জন্য বিওয়াইডি-র ‘সিল’-এর এক্সটেন্ডেড প্রিমিয়াম সংস্করণ মিলছে ৮৭ লাখ ৯০ হাজার টাকায় এবং অল-উইল ড্রাইভ পারফরম্যান্স সংস্করণটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৫৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম।