জামালপুরের আলোচিত ইশরাত জাহান মিমি হত্যা মামলায় এক চাঞ্চল্যকর নতুন মোড় এসেছে। পূর্বে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দাবি করেছিল যে নিহত ইশরাত জাহান মিমি এবং গ্রেপ্তারকৃত কাউসার আহমেদ খানের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল, যা হত্যাকাণ্ডের কারণ। তবে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিহতের বাসা থেকে একটি কাবিননামা উদ্ধারের পর জানা যায়, তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত (পিপিএম) মঙ্গলবার রাতে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পিবিআই সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিমির বাসায় পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের সঙ্গে কাবিননামাটি উদ্ধার করা হয়। কাবিননামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কাউসার আহমেদ খান ও ইশরাত জাহান মিমি ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। এতে বর হিসেবে কাউসার আহমেদ খান এবং কনে হিসেবে ইশরাত জাহান মিমির নাম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর শহরের জিয়া কলেজ মোড় এলাকার পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছিল, প্রায় তিন বছর আগে কাউসারের মুদি দোকানে কেনাকাটার সূত্রে তাদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ লেনদেন ও পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনার জের ধরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পিবিআই দাবি করেছিল। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ১৬১ ধারায় দেওয়া কাউসারের জবানবন্দির বরাতেও এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল।
তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কাবিননামা উদ্ধারের ঘটনায় পুরো মামলাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের এই তথ্য সামনে আসায় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, তা নিরপেক্ষ ও গভীরভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেছিলেন, "আসামির স্বীকারোক্তি ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।"
গত ২৩ আগস্ট সকালে পৌর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট সংলগ্ন একটি ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে ইশরাত জাহান মিমির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে আটকে থাকা তার দুই শিশুসন্তানকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা ও পুলিশ। মূলত বন্ধ জানালার ভেতর থেকে শিশুদের পানি চেয়ে কান্নাকাটি ও বাঁচাও আকুতির সূত্র ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।