পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মোকাবিলায় পুরো রাজধানীকে কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা জানিয়েছে র্যাব।
মঙ্গলবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ এবং র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হচ্ছে। মহানগরের সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।"
গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন ইউনিটের সদস্যরা সুইপিং কার্যক্রম (বিশেষ তল্লাশি) পরিচালনা করবেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় এনে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, "সিটিএসবি ও আইএডির সদস্যরা সাদাপোশাকে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখবেন। সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত র্যাব ও সিআইডি টিমও মোতায়েন থাকবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত ও মোতায়েন রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক মোতায়েনের বাইরে অতিরিক্ত অফিসার ও ফোর্স রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও র্যালিকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় মোতায়েন থাকবে। ওই ব্যবস্থার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ র্যালির সামনে ও পেছনে থাকবে। ডিএমপির সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিনে মাঠে থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকি করবেন।"
দেশব্যাপী নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহল জোরদার ও সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করতে পর্যাপ্ত র্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় আগে থেকেই স্কেলিটন ফোর্স মোতায়েন করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় মসজিদের ইমাম, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক নেতারা ও নাগরিক নিরাপত্তা কমিটির ব্যক্তিদের এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
র্যাব আরও জানিয়েছে, "স্বার্থান্বেষী মহল, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও কোনো গোষ্ঠীর মাধ্যমে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানে হামলা, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিতর্কিত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে। জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় র্যাবের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট চিহ্নিত করতে সাইবার প্যাট্রলিং জোরদার করা হয়েছে।"