দক্ষিণ ভূমধ্যসাগরের ক্রিট দ্বীপের নিকটবর্তী এলাকা থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে গ্রিসের কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকা থেকে শত শত মানুষকে উদ্ধার করার ধারাবাহিকতায় এই সর্বশেষ পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ডের একজন মুখপাত্র জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি ড্রোন দক্ষিণ ক্রিটের কালি লিমেনেস বন্দরের কাছে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুটি নৌকা দেখতে পায়। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত দুজন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের নাগরিকরা রয়েছেন।
গ্রিসের এএনএ সংবাদ সংস্থা প্রথমে ৮৫ জনকে উদ্ধারের কথা জানালেও পরবর্তীতে নিশ্চিত করা হয় যে, উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রকৃত সংখ্যা ৭৯। তবে এএনএ-র তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গ্রিসে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীর সার্বিক সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে।
লিবিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার (২০০ মাইল) দূরে অবস্থিত ক্রিট এবং এর কাছের দ্বীপ গাভদোস বর্তমানে গ্রিসে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশের প্রধান পথে পরিণত হয়েছে। অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে প্রায় ৬১ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী এ দেশে এলেও পরবর্তী ১২ মাসে সেই সংখ্যা কমে ৪২ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৩১ শতাংশ হ্রাস।
ইউরোপে চরম ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থন বাড়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন আইন আরও কঠোর করেছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ। অবৈধ অভিবাসনের স্রোত কমাতে লিবিয়ার মতো বিভিন্ন ট্রানজিট দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এদিকে গ্রিসের অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভ্রিস অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন। এছাড়া আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র (রিটার্ন হাব) তৈরির বিষয়ে জার্মানি এবং ইইউভুক্ত আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে গ্রিস।