জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কার্যক্রম পরিচালনায় বিলম্ব, কল বারবার অন্যত্র পাঠানো এবং দ্রুত পুলিশি সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালু না করার বিষয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই রুল জারি করেন।

আইনজীবী সায়কা কবির জিতিসহ সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী গত ১৭ আগস্ট একটি রিট আবেদন করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কার্যক্রম গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমে (জিপিএস) যুক্ত করা হয়নি, কার্যক্রম পরিচালনায় দেরি হচ্ছে এবং ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালু করতে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সায়কা কবির; সঙ্গে ছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী রাহুল তালুকদার পরাগ ও সৈয়দা আফরোজা জেরিন।

সায়কা কবির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “জরুরি প্রয়োজনেই ৯৯৯ কল করা হয়ে থাকে। প্রয়োজনটি জানানোর পাশাপাশি যিনি কল করছেন, তাকে তার অবস্থানও বলতে হয়। অবস্থান জানালেও ঘটনাস্থল কোন থানাধীন, তা অনেকাংশে ৯৯৯ তাৎক্ষণিক নির্ধারণ করতে পারে না। কলটি ফেরত আসে। আবার যিনি কল করছেন, তিনিও ক্ষেত্রবিশেষ নিজের অবস্থান কিংবা ঘটনাস্থল সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে জিপিএস (অবস্থান নির্ণায়ক ব্যবস্থা) হলে জরুরি সেবাটি জনগণ জরুরি ভিত্তিতে পেতে পারেন। আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব এজাহারভুক্ত করতে হয়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট থানার অধিক্ষেত্রের বাইরে হলে অভিযোগ অন্য থানা গ্রহণ করে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ দায়ের না করা হলে আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যে কারণে ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালু করতে ব্যর্থতা নিয়ে রিটে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জিরো এফআইআর ব্যবস্থা চালু হলে আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযোগ দ্রুত রেজিস্ট্রার করা যাবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর দ্রুত আইনের আশ্রয়লাভের সুযোগ নিশ্চিত এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে।”

রিট আবেদনকারী পক্ষ জানতে চেয়েছে, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কার্যক্রমে দেরি, কল বারবার অন্যত্র পাঠানো এবং কার্যকর জিপিএস পদ্ধতি যুক্ত করতে ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি দ্রুত পুলিশি সহায়তা ও আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালু ও বাস্তবায়নে ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পরিচালক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলেছেন।