১৫৫০-৫১ সালে স্পেনের ভাল্লাদোলিদ শহরে আমেরিকার আদিবাসীদের ওপর স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের বিজয় ও শাসন নৈতিক ও বৈধ কিনা, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। এই বিতর্কে ধর্মতাত্ত্বিক ও বিশপ বার্তোলোমে দে লাস কাসাস এবং রাজকীয় ইতিহাসবিদ হুয়ান গিনেস দে সেপুলভেদা অংশ নেন। বিতর্কের মূল বিষয় ছিল, আদিবাসীরা নিজেদের সমাজ, আইন ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার মতো যুক্তিবোধসম্পন্ন মানুষ কিনা। সেপুলভেদা অ্যারিস্টটলের ‘ন্যাচারাল স্লেভারি’ ধারণা ব্যবহার করে আদিবাসীদের ওপর স্প্যানিশ আধিপত্যকে ন্যায্যতা দিতে চেয়েছিলেন। এর বিপরীতে লাস কাসাস যুক্তি দেন, আমেরিকার আদিবাসীরা স্বাধীন মানুষ এবং নিজেদের জীবন ও সমাজ পরিচালনার অধিকার তাদের আছে। এই বিতর্ক ঔপনিবেশিকতার একটি পদ্ধতিগত কাঠামো উন্মোচন করে: প্রথমে কোনো জনগোষ্ঠীকে ‘কম বা ঊনমানুষ’ হিসেবে নির্মাণ করো, তারপর তার ওপর শাসনকে নৈতিক ও বৈধ বলে প্রতিষ্ঠা করো।

পরবর্তী ঔপনিবেশিক ইতিহাসে এই কাঠামো দুটি ধারণার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়। এর মধ্যে একটি হলো ‘টেরা নুলিয়াস’ ও ‘কারও নয় এমন ভূমি’। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের ইতিহাসে এই ‘টেরা নুলিয়াস’ ভয়াবহ ভূমিকা রাখে। আদিবাসীরা সেখানে বসবাস করত, ভূমির সঙ্গে তাদের গভীর সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছিল, নিজস্ব আইন ও সামাজিক কাঠামো ছিল। কিন্তু ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক আইনের চোখে সেই ভূমিকে এমনভাবে নির্মাণ করা হলো যেন তার কোনো বৈধ মালিক নেই। অন্য আরেকটি ধারণা হলো ‘অ্যানিমা নুলিয়াস’—যেখানে মানুষকে ইতিহাসহীন, রাজনৈতিক সত্তাহীন, নিজস্ব জ্ঞান ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সক্ষমতাহীন হিসেবে নির্মাণ করা হয়। ‘টেরা নুলিয়াস’ ভূমিকে শূন্য করে, ‘অ্যানিমা নুলিয়াস’ মানুষকে শূন্য করে। প্রথমটি দখলকে বৈধতা দেয়, দ্বিতীয়টি সেই দখলের নৈতিক আপত্তিকে দুর্বল করে।

আজকের পৃথিবীতে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো সাধারণত আর বলে না, ‘এই মানুষগুলো মানুষ নয়।’ ভাষা বদলেছে। বলা হয় ‘তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী’, ‘তারা উন্নয়নের পথে বাধা’, ‘তাদের জন্য আলাদা পরিচয়ের প্রয়োজন নেই’, ‘সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক’, ‘উন্নয়ন সবার জন্য’, কিংবা ‘তাদেরকে বৈদেশিক শক্তি ব্যবহার করছে।’ পুরোনো বর্ণবাদী ভাষার জায়গা নিয়েছে প্রশাসনিক, উন্নয়নবাদী ও জাতীয়তাবাদী ভাষা।

বাংলাদেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিয়ে বিতর্কটিকে প্রায়ই ভাষাগত সমস্যার জায়গায় দাঁড় করানো হয়। বছরের পর বছর আলোচনা হয়েছে ‘ইন্ডিজিনাস’-এর বাংলা কী হবে? ‘আদিবাসী’ বলা যাবে কি না? ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ নাকি অন্য কোনো পরিভাষা ব্যবহার করা উচিত? কিন্তু শব্দের এই বিতর্কের আড়ালে মূল রাজনৈতিক প্রশ্নটি চাপা পড়ে যায়। যে জনগোষ্ঠীগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং ভূমির সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা বলে, রাষ্ট্র কি তাদের সেই স্বাতন্ত্র্যের রাজনৈতিক অস্তিত্ব স্বীকার করবে? শব্দের মারপ্যাঁচে আদিবাসীদের স্বীকৃতি আটকে থাকে রাষ্ট্রের হাতে। সেই সঙ্গে আটকে যায় আদিবাসীদের ভূমির অধিকারও।

কিছুদিন আগে আদিবাসী দিবস উদ্‌যাপিত হলো। এর কয়েক দিন পর ‘ইন্ডিজেনাস আইডেন্টিটি ইজ ইরিলিভেন্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে সবাই অধিবাসী, কেউ ইন্ডিজেনাস নয়’। এই যুক্তি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোন সমস্যা সমাধান করতে চেয়েছেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে শাসকদের নানা পালাবদল হলেও আদিবাসী নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ভাষা একই রয়ে গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির কথা। ২০১১ সালের জুলাই মাসে তিনি বলেছিলেন, দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘আদিবাসী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে না। ভিন্ন দুটি সরকারের আমলে মন্ত্রীদের বক্তব্য থেকে মনে হয় আদিবাসী পরিচয় যেন নাগরিকত্বের বিকল্প। একজন মানুষ একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিক এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য হতে পারবেন না কেন? বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অবস্থানের সংকট এখানেই: রাষ্ট্র তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে, কিন্তু স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হিসেবে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দিতে অনীহা দেখানোর মাধ্যমে আদিবাসীদের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ফেলে দেয়।

বাংলাদেশে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, গারো, সাঁওতাল, মুন্ডাসহ বহু জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং ভূমির সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে ভূমি হারানো, উচ্ছেদ, ভূমি দখলের অভিযোগ এবং উন্নয়নের নামে জীবন-জীবিকার ওপর হস্তক্ষেপের বাস্তবতা। এখানে রাষ্ট্র ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজের আচরণে একটি অস্বস্তিকর দ্বৈততা দেখা যায়। আদিবাসী সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য, যতক্ষণ সেটি প্রদর্শনযোগ্য সংস্কৃতি। কিন্তু একই মানুষ যখন বলে, ‘আমাদের ভূমি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমাদের’, তখন তার পরিচয় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অংশের না থেকে রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়।

পাহাড়ি পোশাক, খাবার, নাচ, গান ও উৎসব ‘বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ’-এর নান্দনিক প্রতীক হতে পারে। স্টেজে পুতুলনাচ দেখানোর মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠীকে তার রাজনৈতিক অধিকার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাষ্ট্র আদিবাসী সংস্কৃতির রক্ষক হিসেবে নিজেকে সামনে আনার চেষ্টা করে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও পর্যটনের প্রচারণায় আদিবাসী সংস্কৃতি সহজেই জায়গা পায়। কিন্তু ভূমির মালিকানা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কিংবা আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি সামনে এলেই সেই জনগোষ্ঠীকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বা ‘নিরাপত্তাঝুঁকি’ হিসেবে দেখা শুরু হতে পারে।

‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ নেই। একজন বাঙালি যেমন বাংলাদেশি হতে পারেন, তেমনি একজন চাকমা বাংলাদেশি হতে পারেন, একজন ম্রো বাংলাদেশি হতে পারেন, একজন গারো বাংলাদেশি হতে পারেন। নাগরিকত্ব নিজের ইতিহাস, জাতিগত পরিচয় বা রাজনৈতিক অধিকারের বিলোপ দাবি করে না। কোনো একটি পরিচয় মুছে দিয়ে যে ‘জাতীয় ঐক্য’ তৈরির চেষ্টা করা হয়, তা প্রকৃত অর্থে ঐক্য নয়।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক দাবিকে অগ্রাহ্য করার আরেকটি পুরোনো কৌশল হলো তাদের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করা। প্রচারণা চালানো হয়: ‘তারা আলাদা রাষ্ট্র চায়’, ‘জুম্মল্যান্ড করতে চায়’, ‘বিদেশি শক্তি তাদের ব্যবহার করে’, ‘সীমান্তের ওপার থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে’ ইত্যাদি। রাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু একটি জনগোষ্ঠীর ভূমি, পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারকে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে নির্মাণ করা অন্য বিষয়। যে রাষ্ট্রের নাগরিক নিজের ভূমিতে নিরাপদ নন, যে জনগোষ্ঠী ভূমি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যে পরিবারগুলো বছরের পর বছর নিজেদের ঘরে ফিরতে পারেনি, তাদের নিরাপত্তাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞা কতটা পূর্ণ?

যে রাষ্ট্র আদিবাসী মানুষকে তার নাচের জন্য স্বাগত জানায়, কিন্তু তার ভূমির অধিকারের প্রশ্নে তাঁকে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে দেখে, সে বৈচিত্র্য উদ্‌যাপন করে না; সে বৈচিত্র্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করে যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়, তার ভিত্তি নাগরিক সমতা নয় বরং অধীনতা।

আদিবাসীদের প্রতি সরকারের এই আচরণ অবশ্য সময়ভেদে ভিন্ন হয়। নির্বাচনের আগে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, জীবনযাপন, সংস্কৃতি এবং সমান নাগরিকত্বের কথা বলা হয়। তাদের বাংলাদেশের বৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়; তাদের ভোট, সমর্থন ও প্রতিনিধিত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে একই পরিচয়কে ‘ইরিলিভেন্ট’ বা ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ঘোষণা করার ঘটনাটি দেখায়, রাষ্ট্রক্ষমতা কীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠের জাতীয়তাবাদকে শক্তিশালী করে। বিএনপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির পূর্ববর্তী রাজনৈতিক নথি ও নেতাদের বক্তব্যের বৈপরীত্য তাই আলোচনার দাবি রাখে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এমন এক বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যেখানে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন থাকবে না এবং সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে দেখা হবে। কিন্তু নির্বাচনের পর এখন নাগরিক পরিচয়ের সমতা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচয়কে অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়ার যুক্তিতে পরিণত হয়েছে। একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক আলাপ ধীরে ধীরে ‘অপরায়ণ’-এর আলাপের রূপ নিয়েছে। অন্তর্ভুক্তি মানে বহুত্বকে একটি পরিচয়ের সীমার মধ্যে আটকে রাখা নয়, বরং বহুত্বের মধ্যেই সবার সমান রাজনৈতিক মর্যাদা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ও অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দিয়ে, তাদের নিজস্ব কণ্ঠকে শোনা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে স্বীকার করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের জাতীয়তাবাদ কখনো বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাষায়, কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি মুসলমানের জাতীয়তাবাদের ভাষায় হাজির হতে পারে। বিপদ শুরু হয় তখন, যখন সংখ্যাগরিষ্ঠের পরিচয়কে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক পরিচয় এবং অন্য পরিচয়গুলোকে তার অধীন হিসেবে দেখা হয়। তখন সংখ্যালঘুর অধিকারকে সমান অধিকার হিসেবে নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠের দেওয়া একটি ‘ছাড়’ হিসেবে দেখা শুরু হয়।

‘টেরা নুলিয়াস’ আদিবাসীদের ভূমির অধিকার কেড়ে নিয়েছিল; ‘অ্যানিমা নুলিয়াস’ মানুষকে রাজনৈতিক সত্তাহীন করে তুলেছিল। আধুনিক রাষ্ট্রকে আরও সূক্ষ্ম হতে হয়েছে, মানুষকে সরাসরি অস্বীকার না করেও তার রাজনৈতিক পরিচয়কে অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়া যায়। তখন তাকে বলা হয়: ‘তুমি নাগরিক, কিন্তু আদিবাসী নও। তুমি সংস্কৃতির অংশ, কিন্তু ভূমির সিদ্ধান্তের অংশ নও। তুমি জাতীয় বৈচিত্র্যের প্রতীক, কিন্তু অধীনস্থ। তোমার জন্য নাচ থাকবে, পোশাক থাকবে, উৎসব থাকবে—কিন্তু তোমার ভূমি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে রাষ্ট্রই শেষ কথা বলবে।’

‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ নেই। একজন বাঙালি যেমন বাংলাদেশি হতে পারেন, তেমনি একজন চাকমা বাংলাদেশি হতে পারেন, একজন ম্রো বাংলাদেশি হতে পারেন, একজন গারো বাংলাদেশি হতে পারেন। নাগরিকত্ব নিজের ইতিহাস, জাতিগত পরিচয় বা রাজনৈতিক অধিকারের বিলোপ দাবি করে না। কোনো একটি পরিচয় মুছে দিয়ে যে ‘জাতীয় ঐক্য’ তৈরির চেষ্টা করা হয়, তা প্রকৃত অর্থে ঐক্য নয়। এটা ‘লোক দেখানো’ ঐক্য ও ঔপনিবেশিক যুক্তির একটি আধুনিক সংস্করণ।

নূজিয়া হাসিন রাজনৈতিক সংগঠক ও ফ্রিল্যান্স লেখক।