ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণিতে অতিথি না করায় বেআইনিভাবে ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং করার অভিযোগে নাটোরের লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এই আদেশটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলামের অনুমোদনে কার্যকর করা হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ আগস্ট মারুফ আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি এবং তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ফলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁকে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম আজ বেলা তিনটার দিকে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বহিষ্কারাদেশের চিঠি মারুফ আলীর কাছে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যার আগেই তিনি চিঠি পেয়ে যাবেন।"
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। লালপুরের কেশবপুর স্কুল মাঠে স্থানীয় একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। জানা গেছে, "খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হতে চেয়েছিলেন মারুফ আলী। তবে গ্রামের রীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠানে গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের অতিথি করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সকালে মাইক ভাড়া করে মাঠে ১৪৪ ধারা জারির কথা প্রচার করে মাইকিং করান।"
এই মাইকিং শুনে স্থানীয় লোকজন ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৪ ধারা জারি করেননি; বরং মারুফ আলী কৌশলে এই মাইকিং করিয়েছেন।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা ছাত্রদলের নজরে আসে। এরপর ২৪ আগস্ট তাঁকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মারুফ আলী জানিয়েছেন, বিকেল পর্যন্ত তিনি বহিষ্কারাদেশের চিঠি পাননি।