অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কঠিন কন্ডিশনে কাজটা সহজ না হলেও, প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বাংলাদেশ শক্ত লড়াই উপহার দিতে পারবে বলে বিশ্বাস দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার এবি ডি ভিলিয়ার্সের।

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জিতলেও, সিরিজের সামগ্রিক পারফরম্যান্স থেকে আত্মবিশ্বাস নিতে পারে টাইগাররা।

আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুটি টেস্টের পাশাপাশি তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ। একটি পডকাস্টে আসন্ন সফর নিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “আমার মনে হয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ভালো লড়াই করবে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন সফরগুলোর একটি, বিশেষ করে ব্যাটারদের জন্য।”

দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে বল শুধু বাতাসেই সুইং করে না, পিচে পড়ার পর সিম থেকেও নড়ে। এই দুই ধরনের মুভমেন্টের সঙ্গে অধিকাংশ ব্যাটার অভ্যস্ত না থাকায় পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে ওঠে বলে মনে করেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক। তিনি বলেন, “বল পিচে পড়ার পরও সুইং ও সিম করে। খুব বেশি খেলোয়াড় এমন কন্ডিশনে অভ্যস্ত নয়। তাই এটি সামলানো সত্যিই কঠিন।”

নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য কৌশলও জানিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। তার মতে, এমন কন্ডিশনে শুধু উইকেট বাঁচিয়ে খেলার চেষ্টা করলে সফল হওয়া কঠিন। বোলারদের পরিকল্পনা নষ্ট করতে ব্যাটারদের পাল্টা কৌশল নিতে হবে। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এমন পরিস্থিতি সামলাতে আমার কয়েকটি কৌশল ছিল। কখনো ক্রিজ ছেড়ে সামনে এগিয়ে যেতাম, কখনো স্টাম্প পুরোপুরি ঢেকে খেলতাম। আবার পরিস্থিতি বুঝে স্টাম্প উন্মুক্তও রাখতাম।”

তিনি আরও বলেন, “সিম সহায়ক কন্ডিশনে আপনাকে এভাবেই খেলতে হবে। শুধু স্টাম্প ঢেকে রেখে সারাদিন টিকে থাকার চেষ্টা করলে চলবে না। আপনাকে সক্রিয় হতে হবে।”

অস্ট্রেলিয়ার আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। যেসব দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে, তাদের মধ্যে এখন কেবল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই কোনো জয় নেই। ব্যাটাররা দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে এবার সেই অপেক্ষা ঘুচতে পারে বলে আশা ডি ভিলিয়ার্সের।

জোহানেসবার্গে ১৫ নভেম্বর শুরু হবে প্রথম টেস্ট, চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। সেঞ্চুরিয়নে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর।