অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে। এই সফরে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স বাংলাদেশের এই সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, বিশেষ করে ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়, ডি ভিলিয়ার্সকে মুগ্ধ করেছে। যদিও ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারতে হয়েছে, তবুও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ ড্র করা বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

ডারউইনে বাংলাদেশের জয়ের পর ডি ভিলিয়ার্স তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘৩৬০’–তে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ দলের প্রশংসা করেন এবং আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে কথা বলেন। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “আমার মনে হয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই করবে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন জায়গাগুলোর একটি, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের জন্য। বল শুধু সুইং করে না, সিমেও মুভ করে। পিচে পড়ার পর মুভ করে। খুব বেশি খেলোয়াড় এতে অভ্যস্ত নয়। তাদের মুখোমুখি হওয়াটা তাই খুব কঠিন।”

এমন কঠিন কন্ডিশনে কীভাবে ব্যাট করতে হবে, সে বিষয়েও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পরামর্শ দিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত কিছু কৌশল আছে। কখনো ক্রিজ থেকে বের হয়ে এসেছি, কখনো–বা স্টাম্প ঢেকে ব্যাট করেছি। আবার কখনো স্টাম্প ছেড়ে দাঁড়িয়েছি। কন্ডিশনটা কেমন মনে হচ্ছে, সেটার ওপর এসব নির্ভর করে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “সিমিং কন্ডিশনে এগুলোই (ব্যাটিংয়ের সময়) করতে হবে। সারা দিন শুধু একটি স্টাম্পের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। সক্রিয় ও উদ্যোগী হতে হবে।”

সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো করতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাট করার কৌশল পুরোপুরি পাল্টে ফেলার প্রয়োজন নেই। ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আনার পক্ষে জোর দিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “হুট করে বৈচিত্র্যপূর্ণ শটও খেলতে হবে না। ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে বোলার তার পরিকল্পনা পাল্টাতে বাধ্য হয়।”

বাংলাদেশ দলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে ডি ভিলিয়ার্স যোগ করেন, “বাংলাদেশ দলের প্রতি শুভকামনা। আমার মনে হয়, তাদের ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। সিমিং ও বাউন্সি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।”

লাইভ চলাকালে এক দর্শক ডি ভিলিয়ার্সকে বাংলাদেশে এসে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১১৪ টেস্ট, ২২৮ ওয়ানডে ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলা ডি ভিলিয়ার্স এর উত্তরে বলেন, “ধন্যবাদ। তবে এখন এসব নিয়ে ভাবছি না। আরও অনেক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে। টিম বাসে ওঠার জন্য এখন প্রস্তুত নই। হয়তো অল্প কিছুদিনের জন্য কনসাল্টিং করা যায়, কিংবা প্রাক্‌-মৌসুমে কয়েকজন ব্যাটসম্যানের সঙ্গে কাজ করা যায়। তবে এখন তিন সন্তানকে রেখে বিশ্বভ্রমণের জন্য প্রস্তুত নই আমি।”

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৮টি টেস্ট খেলে একটিতেও জেতেনি, সবগুলোতেই হেরেছে। ১২টি ওয়ানডে খেলে জয় মাত্র দুটি। অন্যদিকে চারটি টি-টোয়েন্টি খেলে হেরেছে সব কটিতেই। আগামী ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১ ডিসেম্বর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ এবং ১০ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে।