মাগুরার আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যায় করা মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথরেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর ৩১ আগস্ট রায় দেবেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রায়ের নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে তৃতীয় দিনে গতকাল সোমবার শুনানি নিয়ে আদালত আজ মামলাটি রায়ের জন্য রেখেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ আদালত রায়ের নতুন তারিখ দেন।

.

এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি হাইকোর্টে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট ওই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। গঠিত বেঞ্চটি গত ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনতে গঠিত বেঞ্চে মাগুরার আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ১১ আগস্ট। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) থেকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই মামলার শুনানি শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার ও গতকাল শুনানি হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক শুনানিতে অংশ নেন। আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান শুনানি করেন।

.

আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ রায় হয়নি। এ মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থিত হবেন। হয়তো কিছু বক্তব্য দেবেন। আজ তিনি ছিলেন না, যার কারণে আদালত আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।’

মাগুরার শিশুধর্ষণ-হত্যার সেই ঘটনা

গত বছরের মার্চের শুরুর দিকে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শিশুটি। এরপর ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর সাত দিন পর ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছরের ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। গত বছরের ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

.

গত বছরের ১৭ মে রায় দেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

দণ্ডাদেশ, ডেথরেফারেন্স ও আপিল

আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়।

অন্যদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। এই আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ১ জুলাই হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ে হিটু শেখকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়। এই আসামির ডেথরেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর রায় হবে ৩১ আগস্ট।