রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মামলার তদন্ত এখন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হাতে। অধিকতর তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলের লক্ষ্যে থানা থেকে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। রংপুরের পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির মিল আছে। তবে কিছু বিষয়ে আসামিরা নতুন তথ্যও দিয়েছেন।"
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রংপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জিন্নাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর উভয় কর্মকর্তা মাছুয়াপাড়ায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
গত শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় গত রোববার ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। রোববার গভীর রাতে দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। মাছুয়াপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ বসবাস করছিলেন তিনি। রোববার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাতেই তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।