যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কংশনগর গ্রামের মো. রাজু (৩৮)। গত শনিবার রাতে একটি পিৎজার দোকানে কর্মরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন রোববার রাজুর পরিবার তার মৃত্যুর খবর জানতে পারে।
রাজুর বাড়ি সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কংশনগর গ্রামে। গতকাল সোমবার দুপুরে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশী ও স্বজনেরা ভিড় করেছেন। ঘরের ভেতরে রাজুর স্ত্রী পলি আক্তার, ১২ বছরের কন্যা জান্নাতুল নাইমা, আড়াই বছরের রাইসা আক্তার এবং বাবা মোহাম্মদ উল্যাহসহ পরিবারের সদস্যরা আহাজারি করছেন। তাদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে প্রতিবেশীদের চোখেও জল দেখা যায়।
পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা জানান, রাজু তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। দেশে তিনি রংমিস্ত্রির কাজ করতেন। বড় মেয়ে জান্নাতুল নাইমার জন্মের পর জীবিকার সন্ধানে তিনি কাতারে পাড়ি জমান এবং সেখানে সাত বছর কাটান। কাতার থেকে ২০২৩ সালে দেশে ফেরার পর একই বছরের শেষের দিকে তিনি অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তিনি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি একটি পিৎজার দোকানে চাকরি নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজনদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাতে রাজু দোকানে কাজ করছিলেন। এ সময় এক দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে রাজু ছাড়াও আরও একজন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজুর বাবা মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, “ছেলেটা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করেছে। অনেক কষ্টের বিনিময়ে আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্রে) গেছে। তাকে নিয়ে আমারও অনেক আশা ছিল। ছেলেটা প্রতিষ্ঠিত হবে, টিনের ঘরটি পাকা করবে—কত আশা, সব শেষ হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চাই। সরকার যেন সেই ব্যবস্থাটুকু করে।”
আমিশাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল আজিজ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছে রাজু। সাত বছর কাতারে থাকলেও তেমন কিছু করতে পারেনি। বাড়িতে থাকার ঘরটি এখনো ভাঙাচোরা। শেষে নিজের সহায়-সম্বল বিক্রি করে স্বপ্নপূরণের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তার মৃত্যু হলো।”