আদালত কর্তৃক এক বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার সাজা পাওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব পদে নিযুক্ত হয়েছেন মো. ইমরুল কায়েস সুমন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৬ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়, যা ২২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী শহরে বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করেন সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১০ লাখ টাকার চেক প্রতারণা সংক্রান্ত একটি নালিশি মামলায় গত ৬ আগস্ট পাবনার ১ম যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক এম. সারওয়ার জাহান আসামি ইমরুল কায়েস সুমনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সমপরিমাণ অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের দিন আসামি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।
পাবনার সরকারি আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম সারওয়ার খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে তার মুক্ত অবস্থায় থাকার আইনগত সুযোগ নেই এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলেও জরিমানার ৫০ শতাংশ অর্থ আদালতে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।"
অভিযোগ উঠেছে, আদালতের সাজা সত্ত্বেও গত ২০ আগস্ট ঢাকার গুলশানে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পাবনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
পৌর বিএনপির একাংশের নেতাদের দাবি, সুমন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হওয়ায় তথ্য গোপন করে তাকে কমিটিতে আনা হয়েছে। ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু বলেন, "আইনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার জোরে এক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দলীয় পদ দেওয়া হয়েছে এবং শীর্ষ নেতৃত্বকেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে।"
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরুল কায়েস সুমন জানান, ব্যবসায়িক দেনাপাওনা নিয়ে মামলাটি চলমান ছিল। মামলার ধার্য তারিখ ভুলবশত মনে না থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি এবং তার অনুপস্থিতিতেই এই রায় হয়। তিনি দাবি করেন, বিষয়টির দ্রুত আইনি নিষ্পত্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এই বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, "তার বিরুদ্ধে সাজা হওয়ার কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক তথ্য আমাদের জানা ছিল না। কেউ এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগও জমা দেয়নি। তবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আইনি বাধা বা দণ্ডাদেশ থাকলে সে বিষয়ে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"