গত কয়েক দিনের দরপতনের ধারাবাহিকতায় সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমায় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৯ পয়েন্ট বা প্রায় দেড় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ কমে পুনরায় ৬০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্প খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই সমস্যার কোনো আশু সমাধানের কথা জানানো না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানি এই জ্বালানি সংকটে ভুগছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়েছে। এর প্রভাবে ডিএসইএক্স সূচকটি কমে ৫ হাজার ৬৪৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ২৪ জুন সূচকটি ৫ হাজার ৬১৭ পয়েন্টে ছিল।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন লেনদেন হওয়া ৩৮৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫৫টির বা প্রায় ৯২ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। দাম বেড়েছে ১৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির। দরপতনের কারণে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে ১০৯ কোটি টাকা বা ১৫ শতাংশ কমে ৬০২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাজারের এই পরিস্থিতির বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী বলেন, "দেশে বর্তমানে গ্যাস–বিদ্যুতের যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা শিল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরেও সমস্যা তৈরি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ সমস্যার আশু সমাধানের কোনো আশার কথাও বলা হচ্ছে না। সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, রাতারাতি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য কয়েক বছর সময় লাগবে। এ অবস্থায় শিল্পমালিকদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। যার তাৎক্ষণিক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়েছে।"
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের তথ্যমতে, সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, পূবালী ব্যাংক, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ন্যাশনাল ব্যাংক ও ইউনাইটেড পাওয়ার। এই ১০ কোম্পানির দরপতনে ডিএসইএক্স সূচক ১৬ পয়েন্ট কমেছে।
ডিএসইর তথ্যানুসারে, এদিন শেয়ার বিক্রির দিক থেকে শীর্ষে ছিলেন ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চেয়ে বেশি কিনেছেন। মোট লেনদেনের প্রায় ৮৮ শতাংশ ছিল ব্যক্তিশ্রেণির এবং ৮ শতাংশ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের।