চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের কোনো টাকা খরচ করতে পারেনি সরকারের ১০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ। ফলে জুলাই শেষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ১ শতাংশেও পৌঁছায়নি বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হালনাগাদ চিত্রে দেখা যায়।
সোমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ চিত্র প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই শেষে সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে টাকা খরচ হয়েছে শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শতাংশের হিসাবে এটি গত অর্থবছরের প্রথম মাসের হারই। তবে ২০২৪-২৫ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে ব্যয় হয়েছিল ১ শতাংশের বেশি।
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জুলাই–জুন সময়ের পরিবর্তে এপ্রিল–মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং ২০২৮–২৯ অর্থবছর থেকে নতুন সময়কাল ধরে সবকিছু পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। সিদ্ধান্তের একটি কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অর্থবছরের শুরুতে বর্ষাকাল থাকায় প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো এগোয় না। বৃষ্টির কারণে অর্থবছরের শুরুতে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা খরচ করা সম্ভব হয় না। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা যাতে আরও কার্যকরভাবে খরচ করা যায়, সে লক্ষ্যে সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।
খরচ ‘শূন্য’ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে হিসাবে খাতা খুলতে পারেনি—শিল্প; বাণিজ্য; ধর্ম; পররাষ্ট্র; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন; পাবর্ত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ; স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ; সেতু বিভাগ; অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ খরচ করতে পারেনি।
বেশি ব্যয় করেছে কারা
বরাদ্দের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন। ২৯ কোটি টাকার বিপরীতে সেখানে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংস্থাটির হিসাবে মোট বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। সংসদ বিষয়ক সচিবালয়ও প্রায় ৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে; আর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সাড়ে ৫ শতাংশ ব্যয় করেছে।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, বরাদ্দের ৫ শতাংশ ব্যয় করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর দুর্নীতি দমন কমিশন ব্যয় করেছে সাড়ে ৪ শতাংশ অর্থ।
ব্যাখ্যা পরিকল্পনা বিভাগের সচিবের
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট মাসে প্রকল্পের কার্যাদেশ ঠিক করতে কিংবা ক্রয় পরিকল্পনা করতেই চলে যায়। টেন্ডার করতে অক্টোবর মাস লেগে যায়। মূলত সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পের মূল্য ব্যয় শুরু হয়। তাই শুরুতে এডিপি বাস্তবায়ন হার কিছুটা কম।’