রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, ঘটনার রাতে বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখতে পায়। পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান উজ্জ্বল কুমার বর্মনকে ডেকে সংযোগটি সচল করা হয়। উজ্জ্বল কুমার বর্মন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "শনিবার রাতে পুলিশ সেখানে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখতে পেলে বেলাল নামে তার পরিচিত এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাকে মোবাইল ফোনে কল করে সেখানে গিয়ে সংযোগটি চালু করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। রাত ১টার দিকে তিনি সেখানে গিয়ে সংযোগটি সচল করেন।"
উজ্জ্বল জানান, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে উঠে তিনি দেখেন সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, "লাইনটা খোলা, খুলে ফেলা, নিউট্রাল খুলে ফেলা।"
তিনি আরও বলেন, "এটা ভাই খোলা, মানে এই যে খোলা। বাসাবাড়ির লাইন লুজ হলে লাগা থাকে। স্পার্ক করে, ঝুলে থাকে। কিন্তু এভাবে ডিসকানেক্ট হয়ে পড়ে থাকা তো কখনো দেখি নাই।"
তবে এই বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, "এটা আমরা জানি না। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল কি না, এটা আমরা জানা নেই।"
এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবেশী দুই যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হলে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তাঁরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাঁদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।"
তিনি আরও জানান, "আদালতে তারা বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে সেসব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।"
জবানবন্দি শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।