র‍্যাবের অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৬৩টি গাড়ি কেনা হচ্ছে। তিন ধরনের এসব গাড়ির মধ্যে থাকছে ৩টি জিপ, ১০০ টহল পিকআপ ও ৬০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস। অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠক শেষে এ অনুমোদনের কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব গাড়ি কেনা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে ফাওজুল কবির খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, গাড়ি কেনার আগে অনেক ধাপ আছে। সেগুলো এই সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে না।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তারা এই সুপারিশ করে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মহলও র‍্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই বাহিনীর বিলুপ্তি দাবি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেছেন, র‍্যাবের বিলুপ্তি এখন জাতীয় দাবি। গুম কমিশনও র‍্যাবকে বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

এমন কোনো অপরাধ নেই যেখানে র‍্যাব জড়িত নয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও র‍্যাবকে বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সব জেনেও র‍্যাবকে বিলুপ্ত না করে আরও বৈধতা দিচ্ছে, সক্ষমতা বাড়াতে গাড়ি কিনছে, এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সরকার কোন যুক্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ প্রশ্ন করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। সব প্রতিবেদনকে কেন অবজ্ঞা করা হচ্ছে, এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সরকারের সময় প্রায় শেষ। এখন কেন র‍্যাবের জন্য গাড়ি কিনতে হচ্ছে, জবাবদিহি করতে হবে। তাহলে সরকার কি স্বার্থান্বেষী মহলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এটি করছে?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকে এসব গাড়ি কেনার খরচ বহন করা হবে। ‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে এসব গাড়ি। উন্মুক্ত ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার কথা থাকলেও এখন এগুলো কেনা হবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে।

কোনো কিছু সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কিনতে গেলে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির নীতিগত অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। গতকাল সেই অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে।

প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, ২০১৮ সালে। তখন প্রকল্প মেয়াদে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরে ২০৭ কোটি টাকা কাটছাঁট করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৮২৭ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির আওতায় মোট ১ হাজার ৫৭০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং ১৩১টি সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০৯টি যানবাহন ও ১০১টি সরঞ্জাম কেনাও হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জিপ হবে ২ হাজার ৫০০ সিসির। একেকটির বাজারমূল্য হতে পারে দেড় কোটি টাকার মতো। আর পেট্রল জিপের বর্তমান বাজারমূল্য ৬৪ লাখ টাকা এবং মাইক্রোবাসের বাজারমূল্য ৪৮ লাখ টাকা।