রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সিদ্ধার্থের পরিহিত শার্টের সঙ্গে মরদেহ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার শার্টের হুবহু মিল পাওয়া যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক গণমাধ্যমকর্মী মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তীর পরনে থাকা শার্টের রং ও নকশার সঙ্গে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের শার্টের মিল রয়েছে। এই বিষয়টিই বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আসামির শার্টের রঙের সঙ্গে মিলছে বলে কি আমি এই শার্ট পরব না? আমি চিন্তা করছি, এই শার্ট আগামী সাত দিন পরে থাকব।” এ সময় ভিডিও কলে তাকে ওই শার্ট পরা অবস্থায় অফিস করতে দেখা যায়।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামের দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের দুজনেরই বাড়ি মাছুয়াপাড়া এলাকায়। পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনে বসেই গ্রেপ্তারকৃত দুজন ইয়াবা সেবন করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে ঘটনাস্থলে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং ঠিক কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।

রংপুরের স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের ফেসবুক লাইভে প্রকাশিত ভিডিওতেও একজনকে মাস্ক পরা অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনায় তাকে পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী হিসেবে শনাক্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, গত রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তারা রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

এই ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে গত রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।