ফেনী পৌর শহরের মধ্যম চাড়িপুর এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে অপহৃত ও আটক অবস্থায় চার মাদ্রাসাছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সোনাগাজী উপজেলা থেকে তারা এখানে ঘুরতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোবারক হোসেন শাহেক (১৮) ও কাউছার ইসলাম হাসনাত (১৮) নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে সোনাগাজী উপজেলার ছড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় ১৪ বছর বয়সী আলেয়া (ছদ্মনাম)। যথাসময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

তদন্তে জানা যায়, ওই ছাত্রী তার আরও তিন বান্ধবীকে নিয়ে ফেনী শহরে ঘুরতে আসেন। ওই দিন বিকেলে শহরের বিজয়সিংহ দিঘী এলাকায় ঘোরাঘুরির সময় মোবারক ও হাসনাতসহ কয়েকজন অপরিচিত যুবক তাদের সঙ্গে পরিচিত হয়। সুযোগ বুঝে তারা ওই ছাত্রীর প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের আইফোন হাতিয়ে নেয়। মোবাইল হারিয়ে বাড়ি ফেরার উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েন। এরপর প্রতারকরা তাদের নিয়ে ফেনী শহরের মধ্যম চাড়িপুর এলাকার মোহাম্মদ হোসেন ভূঁঞা ভবনের সপ্তম তলায় ভুয়া স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একটি বাসা ভাড়া নেয় এবং সেখানে তাদের আটকে রাখে।

পরদিন ২১ আগস্ট দৈনন্দিন খরচের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্তরা দুই ছাত্রীর কান থেকে দুই জোড়া স্বর্ণের দুল আত্মসাৎ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ছাত্রীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে ভবনের মালিক হোসনেয়ারা বেগম তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন।

খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক সজল কান্তি দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে চার ছাত্রীকে উদ্ধার করে। পরে ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোবারক ও হাসনাতকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আসামি মোবারকের হেফাজত থেকে আত্মসাৎ করা দুই জোড়া কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক সজল কান্তি দাশ মুক্তকণ্ঠকে জানান, "মূলত শিক্ষার্থীরা ফেনী শহরে ঘুরতে এসে প্রতারকের খপ্পরে পড়ে। পরে ভবন মালিকের কল পেয়ে আমরা তাদের উদ্ধার করি। এ বিষয়ে এক ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করলে আমরা দুই যুবককে আটক করি। তাদের সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।"