যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে মো. রাজু নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউনসভিল এলাকার ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামের একটি দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজু নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে এক বন্দুকধারী ওই ফ্রাইড চিকেনের দোকানে প্রবেশ করে গুলি চালায়। সে সময় দোকানে কর্মরত রাজুসহ দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। রাজুর বুকে এবং অপর বাংলাদেশির পায়ে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। আহত অপর বাংলাদেশি চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ আছেন।
রাজুর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
নিহতের এক স্বজন জানান, রাজু ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন। তারা দ্রুত রাজুর মরদেহ দেশে এনে পারিবারিকভাবে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আল ইমরান বলেন, জীবিকার সন্ধানে রাজু কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। সেখানে কাজ করে তিনি পরিবারের জন্য অর্থ পাঠাতেন। হঠাৎ গুলিতে তার মৃত্যুর খবর স্বজনদের কাছে পৌঁছালে এলাকায় শোক নেমে আসে।
আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তার মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।” তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রাজুর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য মাহমুদুল হাসান ওরফে রুদ্র মাসুদ বলেন, “এখানে সবার মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কী কারণে ওই দোকানে বন্দুকধারী গুলি চালিয়েছে এবং হামলাকারীর পরিচয় কী, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।” তিনি আরও বলেন, “নিউ ইয়র্কের পুলিশ যেকোনো ঘটনা উদঘাটনে সক্ষম। আশা করি শিগগিরই খুনিরা ধরা পড়বে।”