পঞ্চগড়ে এক নারীর দায়ের করা গণধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার সকল আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধে বাদী নারীর বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আদেশের মাধ্যমে এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১২ আগস্ট রায় দেওয়া হলেও বিষয়টি রোববার (২৩ আগস্ট) জানাজানি হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানায় ওই নারী একটি গণধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। এজাহারে তিনি দাবি করেন, ৪ জুলাই রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার তিন মাইল এলাকায় কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। জব্দকৃত আলামতের ডিএনএ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে অভিযুক্ত আসামিদের ডিএনএর কোনো মিল নেই। তবে অন্য এক ব্যক্তির ডিএনএ মিলে প্রমাণিত হয় যে, বাদী ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ জানায়, পূর্বশত্রুতা ও হয়রানির উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছিল। ডিএনএ প্রতিবেদন ও প্রশাসনিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বেকসুর খালাস দেন এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী ওই নারীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন (মামলা) দায়েরের নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান জানান, "বিজ্ঞ আদালত সমস্ত নথিপত্র সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত আদেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে নির্দোষ ব্যক্তিরা হয়রানি থেকে মুক্তি পেলেন এবং সমাজে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধে সঠিক আইনি বার্তা পৌঁছাবে।"