চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের দাশের বাজার থেকে রসুলপুর স্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের একাধিক স্থানে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ দেড় দশকে সংস্কার না হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির করুণ দশা তৈরি হয়েছে।

ফতেপুর পূর্ব, সুলতানাবাদ ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই পথ। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সি আজিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়, মতলব সরকারি হাসপাতাল, মতলব সরকারি কলেজ ও রয়মননেছা মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও রোগীরা নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন। জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে বর্তমানে এই পথে অসুস্থ রোগীকে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে চাকরিজীবী, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দাশের বাজারের ব্যবসায়ী মো. মজিবুর রহমান বলেন, "সড়কটির বেহাল দশায় আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংসের মুখে। বর্ষাকালে খানাখন্দে যানবাহন আটকে পড়ে, মালামাল পরিবহন অসম্ভব হয়ে যায়। ক্রেতারাও অন্য বাজারে চলে যাচ্ছেন। দ্রুত সংস্কার না করা হলে আমাদের চরম লোকসান গুনতে হবে।"

ইসলামাবাদ গ্রামের মতলব সরকারি কলেজের ছাত্র মো. মাসুদ বলেন, "প্রতিদিন ভাঙা সড়ক দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলেজে যেতে হয়। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বৃষ্টি হলে কোনো যানবাহন যেতে চায় না, গেলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। এতে আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।"

অন্যদিকে, ইজিবাইক চালক আশরাফ আলী জানান, প্রতিদিন ইজিবাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, যার মেরামতের খরচ চালাতে গিয়ে লাভ থাকছে না। তবুও ঝুঁকি নিয়েই যাত্রী পরিবহন করতে হচ্ছে তাকে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মাসুদ জানান, ২০১০ সালে সড়কটি পাকা করার পর আর কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি, যদিও স্থানীয়দের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার জানান, সড়ক সংস্কার বা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন তালিকায় রাখা হয়। সড়কটি জিপিপি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত থাকলে গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করা হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, "সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। জরাজীর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"