কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পূর্বঘোষিত পাচার ও দুর্নীতিবিরোধী গণসমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী কায়দায় এই সমাবেশ বাতিল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম।

আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ জানান।

রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই গণসমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। তবে ২০ আগস্ট ডিএমপি এই সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। এর প্রতিবাদেই আজকের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, "বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটে দেশের অবস্থা দুর্বিষহ। সংকট মোকাবিলা করতে, দেশ বাঁচাতে অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবি এবং পাচার করা ও অবৈধ অর্থ উদ্ধার করে প্রান্তিক মানুষকে সহজ শর্তে পুঁজি দেওয়ার বিশেষ আইন প্রণয়নের দাবিতে এই পূর্বঘোষিত গণসমাবেশ ছিল। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি গ্রহণ করা হয়। ১০ দিন আগেই ডিএমপিকে নিরাপত্তা বিধানের জন্য লিখিত অনুরোধ জানানো হয়; কিন্তু দুঃখজনকভাবে ডিএমপি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই শেষ মুহূর্তে এসে এই সমাবেশ কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হলো না বলে জানায়।"

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এসে প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে গণসমাবেশ অনুমতি না দেওয়া সরকারের মধ্যে অন্তর্নিহিত পাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের পক্ষে স্বৈরাচারী মানসিকতা, রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক সংস্কারবিরোধী এবং বাক্‌স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানেরই স্পষ্ট প্রমাণ।"

সংবাদ সম্মেলন থেকে হাসনাত কাইয়ূম তিন দফা দাবি জানান। প্রথমত, গণসমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুলিশের একক হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিচার করতে হবে, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হলে সাত দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে; অন্যথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দ্বিতীয়ত, ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারপূর্বক প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের পুঁজি প্রদান–সংক্রান্ত বিশেষ আইন’-এর খসড়া জমা দেওয়া হবে, যা স্পিকারকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয়ত, সরকারের এই অগণতান্ত্রিক অবস্থানের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের আহ্বান জানান তিনি।

দিদার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মো. নজরুল হক, শেখ নাসিরউদ্দিন, রাশিদা বেগম, জয়দীপ ভট্টাচার্য্য, নাঈম আহমাদ এবং ফরিদুল ইসলাম ফরিদ।

এদিকে, সমাবেশের অনুমতি বাতিলের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (অপারেশনস–২) মাহবুব হোসেন কাজল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "তিনটি সংগঠনের যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করার কথা তাদের বলা হয়। এই সংগঠন তিনটির মধ্যে অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশ নামে সংগঠনটির নামে শাহবাগ থানায় মামলা রয়েছে। যার কারণে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি।"