বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য না করে একে একটি 'হঠকারী-উগ্রবাদী গোষ্ঠী' হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি নুরুল হক নুর। শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জামায়াতের রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "জামায়াতের মতো দলের উত্থান, এটা কি মনে করেন আমাদের জন্য ভালো কিছু হবে? জামায়াতে ইসলাম এই দেশ চালাতে পারবে? রাষ্ট্র চালাতে পারবে? জামায়াত যদি রাজনৈতিকভাবে ওপরে যাওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে এই দেশকে তো ফিলিস্তিন বানিয়ে ছাড়বে।"

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, "সরকারকে বেশি উদার হলে বিপদে পড়তে হবে। বিরোধী দল হিসেবে যেভাবে অ্যাকসেস (সুবিধা) পাচ্ছে এনাফ (যথেষ্ট)। কিন্তু এর চেয়ে বেশি দিলে লিমিট ক্রস (সীমা অতিক্রম) করে ফেলবে। তখন সরকারের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা বেশি মুশকিল হয়ে পড়বে। কারণ বুঝতে হবে এই জামায়াতে ইসলামী কোনো রাজনৈতিক দল না। এটা একটা হঠকারী-উগ্রবাদী গোষ্ঠী।"

বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের ভূমিকা প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে কখনো দেখেছেন কি কোনো এম্বাসেডর (রাষ্ট্রদূত) এদের ডেকে একটা মিটিং করেছে? এখন হঠাৎ করে তারা জামায়াতের আমিরের বাসায় যাচ্ছে। কেন? কারণ তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে যে তাদের স্পেস তৈরি করে দিয়ে তাদের কাজে উৎসাহিত করছে। তখন এই এম্বাসেডররাই আবার সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য নতুন এজেন্ডা তৈরি করবে। তখন তারা বলবে যে বাংলাদেশে উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী আজ বিরোধী দল। তারা এভাবে সারা দেশে চেয়ে গেছে।"

জামায়াতের প্রশ্নে সরকারকে শক্ত অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, "কাজেই জামায়াতে ইসলামীর প্রশ্নে সরকারকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। তাহলে সরকার অনেক দূর এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও শক্ত থাকতে হবে।"

ভারত প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, "ভারতের বিষয় প্রতিনিয়তই আমাদের আলোচনায় থাকে। ভারতকে আমরা কখনো ছাড়তে পারব? আমাদের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এড়াতে পারব না। ভারতের সঙ্গে সরকার শীর্ষ জায়গা থেকে ডিল করবে। কোন ইস্যুতে ভারত যাবে, সেখানে সরকার কতটুকু ছাড় দেবে। তবে ভারত বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের নীতি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছে। এখন তারাই কিন্তু সরকারের মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও মন্ত্রীদের পেছনে ঘুরঘুর করছে প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে নেওয়ার জন্য। কারণ আপনি যখন ব্যক্তিত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন, অন্যরা আপনাকে সেভাবে সম্মান দেবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এত দিন প্রতিষ্ঠা (মিথ) করা হয়েছিল যে ভারত ছাড়া বাংলাদেশ অ চল। এই মিথ বাংলাদেশের মানুষ ভেঙে দিয়েছে। সেখানেই সরকার শক্তি পেয়েছে।"

জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বিরোধী দলসহ বিভিন্ন নেতাদের সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আন্দোলন-সংগ্রাম চার বছর পরে করেন। কারণ নির্বাচন তো আর পাঁচ বছর আগে কোনোভাবেই সম্ভব না। কেয়ামত হয়ে গেলেও নির্বাচন সম্ভব না কারণ জনগণ পাঁচ বছরের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে এই সরকারকে। সুতরাং আপনারা যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারকে চাপে রাখবেন, সেটা ভালো কিন্তু সেটা চার বছর পরে করেন। তবে পলিসিগত দিক থেকে না।"