প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়ে তাড়াহুড়া নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে সরকারপ্রধান ভারত সফর করবেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

আজ শনিবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখব। আমরা একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। তবে তা করতে হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ঢাকা নয়াদিল্লির সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এ ধরনের সম্পৃক্ততা হতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কেন চাইব না? তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের একটি কার্যকর সম্পর্ক থাকা উচিত।’ হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘শুধু ভারতের সঙ্গে নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কিছু করতে পারি না।’

প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময়সূচি জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান পর্যায়ে সফরের জন্য তাড়াহুড়া করার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল যদি আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারি, তাহলে আগামী সপ্তাহে বা তার পরের সপ্তাহেই আমরা যেতে পারি। এখানে কোনো তাড়াহুড়া নেই।’

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি দরকার। তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করতে হবে। আমরা ঠিক সেটিই করছি।’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে এবং বিষয়টি দুই দেশের চলমান সম্পৃক্ততার অংশ।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা কয়েকটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন। তিনি বলেন, সুতরাং, এগুলো নতুন কোনো শর্ত বা নতুন ধরনের সম্পৃক্ততার বিষয় নয়; এগুলো চলমান বিষয়।

ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা এবং অন্য কথিত অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ও অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আরও অনেক অপরাধী ভারতে পালিয়ে গেছে। এটি বাংলাদেশের জনগণের স্বাভাবিক দাবি এবং তাদের অনুভূতির বিষয়। আমরা এই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাই।’