মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্ববিরোধের জেরে মো. এছাহাক সরদার (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে তার দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে হামলা, দুটি বসতঘর ভাঙচুর এবং অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে জাহিদ খান (২৫), রাজিব সরদার (২৫) ও নাজমুল ব্যাপারী (২৩) নামের তিন যুবক আহত হন। স্থানীয়ভাবে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী গ্রামের নশাই সরদারের ছেলে এছাহাক সরদারের সঙ্গে একই এলাকার ঝালু মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পাশের একটি দোকান থেকে চা খেয়ে একা বাড়ি ফিরছিলেন এছাহাক। পথে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তার গতিরোধ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে তুহিন মোল্লা, পারভেজ মোল্লা, রবিউল মোল্লা ও লিমন মোল্লাসহ কয়েকজন প্রথমে এছাহাককে কুপিয়ে জখম করেন। পরে তার দুই পায়ের রগ কেটে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর শনিবার দুপুরে ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে দেলোয়ার হাওলাদারসহ কয়েকজন পুনরায় ওই বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসময় বাড়ির সামনে দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং দুটি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়।
আহত এছাহাক সরদারের স্বজন ইসমাইল বলেন, "পূর্বশত্রুতার জেরে ঝালু মোল্লা ও তার লোকজন এছাহাক সরদারকে কুপিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। এর পরদিন আবার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণ করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঝালু মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে এলাকায় পাওয়া যায়নি এবং তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, "জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এক ব্যক্তির পায়ের রগ কেটে দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"