তিন দিনের বিরতির পর চট্টগ্রামের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা এলএনজি টার্মিনাল থেকে শনিবার (২২ আগস্ট) পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এলএনজি কার্গোর ঘাটতির কারণে গত ১৯ আগস্ট থেকে এই টার্মিনালটির সরবরাহ বন্ধ ছিল, যা দেশের বিদ্যমান গ্যাস-সংকটকে আরও প্রকট করে তোলে।
পেট্রোবাংলা সূত্র অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টার দিকে টার্মিনালটি থেকে পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা কার্যক্রম স্থিতিশীল হলে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের তথ্যানুসারে, আজ দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দুটি এফএসআরইউ থেকে দেশে মোট এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৬৭০ এমএমসিএফডি এবং জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডিতে।
পেট্রোবাংলার প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) বিভাগের পরিচালক এবং অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. শোয়েব গণমাধ্যমকে বলেন, 'এক্সিলারেট টার্মিনালটি পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে এবং গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এই সরবরাহের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়বে।'
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এলএনজি সরবরাহকারী জাহাজটি আগামীকাল পৌঁছানোর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই পৌঁছে যাওয়ায় আজ থেকেই টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় অকেজো ছিল এই টার্মিনালটি। ওই ঘটনার ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পায়। পরবর্তীতে সরকার দ্রুত খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির মাধ্যমে মেরামতের পদক্ষেপ নেয়। মেরামত শেষে আংশিক সরবরাহ শুরু হলেও গত সপ্তাহে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় তা আবারও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।