ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টায় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি দেশে প্রবেশ করে।

সকাল থেকেই সাজুর স্বজনেরা ভোমরা স্থলবন্দরে মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান দিপুসহ কয়েকজন স্বজনকে দেখা যায়। মরদেহ গ্রহণের পর স্বজনরা তা অ্যাম্বুলেন্সে করে কালীগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান, যেখানে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব বালা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তরে কিছুটা সময় নেয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।"

কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা ওমর ফারুক আকন্দ জানান, নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে পাঠাতে উপহাইকমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি আরও বলেন, "রেবতীর পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী ভারতে তার সৎকারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যয় সরকার বহন করেছে।"

সাজুর মরদেহ গ্রহণ করতে ভোমরা স্থলবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ভাই দিপু, ফুফাতো ভাই উজ্জ্বল, মিথুনসহ স্বজনেরা। বড় ভাই সাহেব সরদার বাড়িতে থেকে কবর খননসহ দাফনের আনুষঙ্গিক কাজ তদারক করছিলেন।

অন্যদিকে, ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরেক বাংলাদেশি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারের সৎকার পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতাতেই সম্পন্ন হয়েছে। রেবতীর ছেলে অনিক সরকার জানান, তিনি ভারতের উত্তরাখণ্ডে দাদা-দাদির কাছে ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার ট্রেনে কলকাতায় পৌঁছান। পরে তার বাবা সেখানে পৌঁছান। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে রেবতীর সৎকার সম্পন্ন হয়।

গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এতে নয়জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সাজু ও রেবতী সরকার ছাড়াও কুষ্টিয়ার চারজন এবং ঢাকার একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ শনিবার যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে।