অনেকের জীবনেই এমন কিছু জায়গা থাকে, যেখানে বারবার ফিরে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগে। মুক্তকণ্ঠর শনিবারের ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’-র নিয়মিত বিভাগ ‘ফিরে ফিরে যাই’-তে নিজের প্রিয় ভ্রমণস্থানের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর।
ছোটবেলা থেকে বেশ কয়েকবার কলকাতায় গেলেও কনার মনে হয়নি তিনি বিদেশে গেছেন। তবে নিউইয়র্কে পা রেখেই তিনি প্রথম অনুভব করেন যে তিনি বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আছেন। সিনেমার প্রভাবে এই শহরের প্রতি তার আকর্ষণ তৈরি হয়। তিনি বলেন, "শাহরুখ, কাজলদের সিনেমায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন জায়গা দেখতাম। সিনেমা দেখে নিউইয়র্কে আসার ইচ্ছা হতো। প্রথমবার বা তারপর নিউইয়র্কে এসে সেই জায়গাগুলোতেই ঘুরেছি। শাহরুখ–কাজলদের শুটিং করা স্থানগুলো দেখে নস্টালজিক একটা অনুভূতি হয়েছিল।"
২০০১ সালে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রথমবার এই শহরে আসেন কনা। সেই দলে ছিলেন প্রয়াত নায়ক মান্না এবং নায়িকা মৌসুমীসহ আরও অনেকে। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "আমি তখন অনেক ছোট, অনেক কিছু না-বোঝা এক তরুণী। তখন দেশের বাইরে আজকের মতো এত ঘন ঘন আসা হতো না। সেই সময় প্রথম নিউইয়র্কে গিয়েছি। ম্যানহাটানে ঘুরছি। সেখানে এত বড় বড় ভবন দেখে আমার ভয় লাগছিল। মনে হচ্ছিল, ভবনগুলো বুঝি মাথার ওপর ভেঙে পড়বে! ভয় আর বিস্ময়—দুটো মিলে অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়েছিল।"
এখনও যুক্তরাষ্ট্রে শো করতে আসা এই শিল্পী জানান, "বারবার আসি, তবু ভালো লাগা একটুও কমে না।"
বিগত ২৫ বছরে নয়বার এই শহরে এসেছেন তিনি। প্রথমবার এসে টুইন টাওয়ার দেখেছিলেন, যার অল্প সময়ের মধ্যেই হামলা হয়। সময়ের সাথে সাথে তার ভয় কেটেছে এবং আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তিনি বলেন, "এখন পর্যন্ত নয়বার এসেছি। প্রথমবার এসে বাইরে বের হতেও ভয় পেতাম। আর এখন একা একাই নিউইয়র্কের রাস্তায় ঘুরি। ঘুরে ঘুরে দেখি।"
নিউইয়র্কের ব্যস্ততা ও গোছানো পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করলেও নিজের শহর ঢাকার প্রতি তার টান অপরিবর্তিত। কনার মতে, ঢাকা তার জন্য একটি 'কমফোর্ট জোন'। তিনি বলেন, "বিদেশে এলে ঢাকার কোলাহল, ফেরিওয়ালার ডাক, রিকশার শব্দ—সবকিছু মিস করি। আমার কাছে ঢাকা একটা কমফোর্ট জোন। কারণ, আমি জানি, যেখানেই যাই না কেন, ঘুরে আমাকে ঢাকাতেই ফিরতে হবে। ঢাকার সবকিছু আমার নিশ্বাসের সঙ্গে মিশে আছে।"