খাগড়াছড়িতে আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চেঙ্গী ও মাইনি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মধ্যরাতের বৃষ্টিতে মাইনি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, রাত ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে শহরের কাঁচাবাজার, মুসলিমপাড়া, গরুর বাজার, শান্তিনগর ও খাগড়াছড়ি গেট-সংলগ্ন এলাকার পাশাপাশি দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালীতে পানি ঢুকে পড়ে।

দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্লাবনের কারণে আমনের ক্ষেত তলিয়ে গেছে এবং অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক পরিবার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।

মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, "রাতের মধ্যে হঠাৎ পানি উঠে ঘরে ঢুকে যায়। কাপড়চোপড় আর খাবার নিয়ে দ্রুত স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি।"

দীঘিনালার মেরুং এলাকার কৃষক সুমন চাকমা বলেন, "ধানের জমি পুরো পানির নিচে। রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় কোথাও যেতে পারছি না।"

খাগড়াছড়ি পৌর প্রশাসক রুমানা আক্তার জানান, পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে।

পাশাপাশি খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি পানিবন্দী পরিবারগুলোর লোকজনকে উদ্ধারে সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছেন এবং দুপুরে খাবার বিতরণের কথা জানিয়েছেন।