ভারতের কলকাতায় এক আবাসিক হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও পরিবহন ব্যয়ের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বেনাপোল সীমান্ত হয়ে মরদেহগুলো কুষ্টিয়ায় আনা হচ্ছে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, শনিবার (২২ আগস্ট) বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে কফিনগুলো কুষ্টিয়ায় পৌঁছাতে পারে। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে স্তব্ধ হয়ে থাকা পরিবার এখন মরদেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
পরিবারের সদস্যদের মতে, প্রথমে শুক্রবার মরদেহগুলো দেশে আনার কথা থাকলেও আর্থিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে মরদেহগুলো ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। কলকাতা থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে মরদেহগুলো দেশে আসবে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুসারে, চারটি মরদেহ দেশে আনতে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ রুপি খরচ হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় চার লাখ টাকা। পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা কঠিন হওয়ায় পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় খরচ সরকার বহন করছে বলে স্বজনরা জানান।
দেবাশীষ দত্তের পরিবারের পক্ষ থেকে কলকাতায় যোগাযোগ রক্ষা করা সনি জানান, কলকাতার নিউমার্কেট থানায় করা মামলা লালবাজার থানায় হস্তান্তরের কারণে নতুন করে কিছু আনুষ্ঠানিকতা করতে হয়েছে। নিউমার্কেট থানায় জিডিসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে মামলাটি লালবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিউমার্কেট থানার মেজবাবু লালবাজার থানায় জিডি করার কথা জানান।
স্বজনরা জানান, নিহতদের মোবাইল ফোন, ব্যাগ, লাগেজ ও কেনাকাটা করা জিনিসপত্রও মরদেহের সঙ্গে দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার ফলে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। দেবাশীষের ভায়রা ভাই ফিরোজ হাসান মিঠু এসব জিনিস ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন।
তবে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বজনরা বলেন, "যেখানে মানুষই বেঁচে নেই, সেখানে তাদের মোবাইল ফোন, ব্যাগ, লাগেজ কিংবা কেনাকাটা করা জিনিসপত্র দিয়ে কী হবে? আমরা এখন শুধু চাই, দ্রুত মরদেহগুলো দেশে এনে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক। প্রিয় মানুষগুলোকে শেষবারের মতো দেখতে পারাটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।"
ফিরোজ হাসান মিঠু বলেন, "দুই থানায় জিডিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ করা হয়েছে।" তিনি জানান, কলকাতায় থাকা আত্মীয় সঞ্চয় ঘোষ ও ভগ্নিপতির ভাই কাঞ্চন নন্দী এ কাজে সহযোগিতা করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহতদের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সৎকার করা হবে এবং তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে মরদেহ সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক নেতাদের উদ্যোগে তাদের সৎকারের জন্য কোনো খরচ নেওয়া হবে না। অন্যদিকে, দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও তার বাবা আকরাম আলীর মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হবে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।
এর আগে, গত ১৮ আগস্ট রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমিন, তাদের দুই বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং আফসানার বাবা আকরাম আলী নিহত হন। এই ঘটনায় কুষ্টিয়ার সাংবাদিক ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।