চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়সংলগ্ন মিমি সুপার মার্কেটের ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ থেকে ৯৯ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার ঘটনায় কর্মচারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ১২-১৩ বছর ধরে ওই দোকানে কর্মরত রোমেন দে-র তত্ত্বাবধানে ছিল সোনার চুড়িগুলো। সুযোগ বুঝে তিনি আসল চুড়ি সরিয়ে সেখানে ইমিটেশনের চুড়ি রেখে দেন।

গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মজুত হিসাব মেলাতে গিয়ে এই অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন প্রতিষ্ঠানের মালিক বিপ্লব বসাক। বিষয়টি জানাজানি হলে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, মোট ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রতি ওজনের ৫৫ পিস সোনার চুড়ি গায়েব করা হয়েছে।

ঘটনার পর পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। গত ১৮ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকা থেকে রোমেন দে-কে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়া ও বোয়ালখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী শ্যামল সিংহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে বাকলিয়া, চকবাজার ও কোতোয়ালি থানা এলাকার বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আত্মসাৎ করা পুরো সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার ও বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—জয় দে ওরফে বাবু, রনি দে, স্বপ্না দে ও ইমন দে।

পাঁচলাইশ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত ইমাম জানান, "গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"