রাজশাহীর একটি বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে দালাল ও প্রতারকদের বিষয়ে সতর্ক করে হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর এক নিরাপত্তাকর্মীর গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসময় তাঁকে মারধর করে আহত করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আরিফুল ইসলামকে (৩৭) রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুরোনো ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তাকর্মী সাব্বির হোসেন রাজপাড়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আরিফুলকে প্রধান আসামি করে আরও পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন লক্ষ্মীপুর এলাকার রিদান (২০), কেশবপুর নদীর ধার এলাকার রকি (২২), লক্ষ্মীপুর টিবি হাসপাতাল এলাকার মো. জিম (২৫), বসুয়া (অচিনতলা বালুর মাঠ) এলাকার মো. কাজল (৩০) ও মো. মাসুদ (৩৫)। মাসুদের ঠিকানা জানা যায়নি।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ‘রোগী ধরা’ দালাল, চোর, পকেটমার ও প্রতারকদের বিষয়ে সেবা নিতে আসা মানুষকে সতর্ক করতে হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিচ্ছিলেন সাব্বির। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাঁকে ঘোষণা দিতে নিষেধ করেন। সাব্বির প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর কথা জানালে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে অন্য আসামিদের উসকানিতে আরিফুল দৌড়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুরোনো ভবনের পেছনে যান। সেখান থেকে একটি বড় ধারালো ছুরি নিয়ে এসে সাব্বিরের গলায় ধরেন এবং তাঁকে হত্যার হুমকি দেন। পরে সেখানে উপস্থিত লোকজন সাব্বিরকে উদ্ধার করেন।
আরিফুলকে লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাঁকে আজ আদালতে পাঠানো হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেয় রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল। দলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে জানানো হয়, হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্র রোগীদের বিভ্রান্ত করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, রোগনির্ণয় কেন্দ্র ও ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করে। হাসপাতাল চত্বরে বহিরাগত দালালদের অবাধ বিচরণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসার পরিবেশ ব্যাহত করছে। স্মারকলিপিতে জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও প্রধান প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়। এই স্মারকলিপি দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর ও গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকির ঘটনাটি ঘটে।