ভারতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে বরেয়া গ্রামের আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) এবং তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার রয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যার পর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পান স্বজনরা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে সাজুর বাড়িতে শোকের ছায়া দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে বিরাজ করছিল গভীর উৎকণ্ঠা। সাজুর বড় ভাই সাহেব আলী সরদার জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন। সাহেব আলী সরদার আক্ষেপ করে বলেন, "চিকিৎসার জন্য সে কলকাতায় গিয়েছিল। হোটেলে আগুন লাগার পর তার মৃত্যুর খবর পাই, যা স্বজনদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি। এখন সরকারের হটলাইনে যোগাযোগ করছি। ভাইয়ের লাশটা যেন দ্রুত পাই, সরকারের কাছে এটাই আকুল আবেদন।"

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাজু তার বাড়ির দ্বিতীয় তলা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বাড়ির কেয়ারটেকার ইসমাইল হোসেন বলেন, "ইট কেনা হয়েছে, দু-এক দিনের মধ্যে কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। ভাই বলেছিলেন ভারত থেকে ফিরে ঘের ও বাড়ির কাজ দেখবেন। এখন এই অবস্থায় কী করব, বুঝতে পারছি না।"

প্রতিবেশী নাজমুল হুদা সাজুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কলকাতার ওই হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি তদন্ত করে প্রকাশের দাবি জানান। অন্যদিকে, নিহত রেবতী সরকারের বাড়ি বর্তমানে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, তিনিও চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ওই হোটেলে অবস্থানকালে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন।

জানা গেছে, কলকাতার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলের এই অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক। বর্তমানে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ জানান, সাজুর মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন কাজ করছে এবং জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিবিড় নজরদারিতে রেখেছে। তবে রেবতী সরকারের মরদেহ আনার বিষয়ে তখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।