রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে (বর্তমানে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ) ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ২২তম বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে চালানো এই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানও ছিলেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৮ সালে বিচারিক আদালত এই মামলায় ৪৯ আসামিকে বিভিন্ন দণ্ড প্রদান করলেও ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে সবাইকে খালাস দেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে আপিল বিভাগ খালাসের রায় বহাল রাখেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতভাবে এই রায় প্রদান করেন।
আপিল বিভাগের রায়ে উল্লেখ করা হয়, "ডেথ রেফারেন্স খারিজ, আসামিদের আপিল মঞ্জুর এবং বিচারিক আদালতের দোষী সাব্যস্ত করা ও দণ্ডাদেশ বাতিল করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা ন্যায়সংগত। তথ্যপ্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও আইনি দিক পর্যালোচনা করে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে কোনো দুর্বলতা বা বেআইনি কিছু পাওয়া যায়নি।"
ঘটনার পর মতিঝিল থানায় দুটি মামলা করা হলেও তদন্ত নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন করে তদন্ত শুরু হলে ২০০৮ সালে সিআইডি ২২ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এবং ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্রের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
তবে সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত বিচারকে অবৈধ ঘোষণা করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করেন, যার ফলে সব আসামি খালাস পান। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে নিহতদের প্রতি ন্যায়বিচারের জন্য সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তবে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই পর্যবেক্ষণ এবং আদেশের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অংশটি বাতিল করেন।