সিলেট নগরে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে এই জবানবন্দি প্রদান করেন তিনি। চার দিনের রিমান্ড শেষে এদিন বেলা একটার দিকে পুলিশ বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করে। রাত ৯টার দিকে জবানবন্দি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে আদালত থেকে বের করা হয়।
এর আগে রোববার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন শুনানি শেষে বিচারক ফারহানা সুলতানা বাবুল মিয়ার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টা ছিলেন।
ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে শুক্রবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে এজাহারে তিনি বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ না করলেও আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন। সেলিনা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
সিলেটের কোর্ট ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে বাবুল মিয়া ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, জবানবন্দিতে বাবুল আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে প্রকাশ করা যাবে না।