ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ রুল দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী নিগার সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিদুল ইসলাম জনি ও শিহাব উদ্দিন খান।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২৪ জুন এক চিঠিতে তাশরিক-ই-হাবিবকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানায়। চিঠিতে বলা হয়, তাশরিক-ই-হাবিবের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এবং একাডেমিক কমিটির সব সদস্য তাঁর সাথে কাজ করার ব্যাপার অপারগতা প্রকাশ করায় সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের তারিখ ২২ জুন থেকে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিব হাইকোর্টে রিট করেন। রিটটি শুনানির জন্য আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৫৪ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা সংক্রান্ত ২৪ জুনের চিঠি কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ জুন মুক্তকণ্ঠতে ‘গান গেয়ে “ভাইরাল” হওয়ার জন্য নয়, অধ্যাপক তাশরিকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত হওয়ার পর আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ‘ভাইরাল’ হওয়ায় এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, একাডেমিক কার্যক্রমবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে আলোচনায় আসেন অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব। শাহ আবদুল করিম, জেমস ও ফজলুর রহমান বাবুর গান গেয়ে তিনি ফেসবুকে অনেকের নজরে পড়েন। বিভিন্ন শ্রোতা তাঁর গান শেয়ার করে প্রশংসা করলেও ‘ভিন্নধর্মী সুরে’ গান গাওয়ায় অনেকে তাঁকে নিয়ে ট্রল করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের আধেয় তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যেও তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।